কোন ধরনের লবণ বেশি ভালো, সাদা না গোলাপি?
বিভিন্ন রঙ ও উপাদানযুক্ত লবণ। ছবি: এনডিটিভি
- 0

বিভিন্ন রঙ ও উপাদানযুক্ত লবণ। ছবি: এনডিটিভি

প্রকাশিত: নভেম্বর ১ ২০২৬, ১৭:১০

বাজারে এখন সাধারণ সাদা লবণের পাশাপাশি গোলাপি, সেন্ধা, কালো, সেল্টিক বিভিন্ন ধরনের লবণ পাওয়া যায়। স্বাদের ভিন্নতার পাশাপাশি এসব লবণে বাড়তি খনিজ উপাদান রয়েছে বলে প্রচার করা হয়। ফলে সাধারণ সাদা লবণের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন লবণ বেছে নিচ্ছেন অনেকে।
ভারতের হায়দরাবাদের ক্যানসার সার্জন চিকিৎসক অর্জুন শঙ্করণ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানান, দেখতে আকর্ষণীয় বা বেশি খনিজসমৃদ্ধ হলেই কোনো লবণ স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী, এমনটি নয়। বরং এসব লবণের অনেকগুলোতেই পর্যাপ্ত আয়োডিন থাকে না।
বিভিন্ন ধরনের লবণের গুণাগুণ, ব্যবহার ও প্রচলিত ধারণা নিয়ে চিকিৎসকের ওই পোস্টটি তুলে ধরেছে এনডিটিভির প্রতিবেদন।
সাদা লবণ
সাদা লবণ নিয়ে অনেকের ধারণা, এটি সাদা করার জন্য ব্লিচ করা হয়। তবে চিকিৎসক অর্জুন শঙ্করণ বলছেন, প্রচলিত ধারণাটি ঠিক নয় বরং বিশুদ্ধ লবণ প্রাকৃতিকভাবেই সাদা।
তার ভাষ্য, অধিকাংশ লবণই সামুদ্রিক। রোদে শুকানোর পর তা পরিষ্কার করে আয়োডিন মেশানো হয়। মূল বিষয় হলো, প্রতিদিনের রান্নায় আয়োডিনযুক্ত সাধারণ সাদা লবণ ব্যবহার করা নিশ্চিত করা।
গোলাপি ও সেন্ধা লবণ
সামাজিক মাধ্যমে গোলাপি লবণ ও সেন্ধা লবণের ব্যবহার নিয়ে বেশ প্রচারণা আছে। সাধারণ লবণের তুলনায় এগুলোতে বেশি খনিজ উপাদান আছে বলে অনেকে মনে করেন।
তবে চিকিৎসক অর্জুন শঙ্করণের মতে, গোলাপি লবণ ও সেন্ধা লবণ খনিজ শিলা থেকে পাওয়া গেলেও এগুলোতে বাড়তি খনিজ উপাদানের পরিমাণ খুবই সামান্য। ফলে এসব খনিজ থেকে আলাদাভাবে স্বাস্থ্য উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, গোলাপি লবণ, সেন্ধা লবণ ও কালো লবণে আয়োডিনের পরিমাণ খুব কম। সেল্টিক লবণেও প্রায় কোনো আয়োডিন থাকে না।
তাই প্রতিদিনের রান্নায় এসব লবণ ব্যবহারের পরিবর্তে ভিন্ন স্বাদের জন্য মাঝেমধ্যে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সামুদ্রিক লবণ
সামুদ্রিক লবণ মানেই তাতে পর্যাপ্ত আয়োডিন রয়েছে, এমন নয়। চিকিৎসকের মতে, সামুদ্রিক লবণের প্যাকেটে আয়োডিনযুক্ত বা ‘আইওডাইজড’ লেখা থাকলেই সেটি আয়োডিনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যাবে।
অর্থাৎ লবণের ধরন বা উৎসের চেয়ে তাতে আয়োডিন যুক্ত আছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চ রক্তচাপে কোন লবণ ব্যবহার করবেন?
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অনেক সময় কম সোডিয়ামযুক্ত লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণ লবণের সোডিয়াম ক্লোরাইডের কিছু অংশের পরিবর্তে এতে পটাশিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। ফলে খাবারের নোনতা স্বাদ বজায় রেখেও সোডিয়াম গ্রহণের পরিমাণ কমানো যায়।
তবে এ ধরনের লবণ সবার জন্য নিরাপদ নয়। কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, উচ্চ রক্তচাপের রোগী কিংবা পটাশিয়ামযুক্ত ওষুধ সেবনকারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কম সোডিয়ামযুক্ত লবণ ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত?
শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি হলে গলগণ্ড, হাইপোথাইরয়েডিজম, স্মৃতিশক্তির সমস্যা এবং গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের জন্যও আয়োডিন প্রয়োজন।
অর্জুন শঙ্করণের পরামর্শ, প্রতিদিনের রান্নায় যেকোনো আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে লবণ কেনার সময় প্যাকেটে আয়োডিনযুক্ত লেখা আছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।
পাশাপাশি আচার ও পাঁপড়সহ সব ধরনের খাবার থেকে দৈনিক মোট লবণ গ্রহণের পরিমাণ এক চা-চামচের নিচে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
