ফুসফুস ক্যানসারের মতো ভয়ংকর রোগ খুব কমই আছে। সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হচ্ছে ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গগুলো মানুষ সহজে বুঝতেই পারে না। ফলে এড়িয়ে যায়!
যখন রোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। কাজেই শুরুতেই সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, আপনার হাতের আঙুলেই ফুটে ওঠে ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ।
ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে ফিঙ্গার ক্লাবিং বা ডিজিটাল ক্লাবিং। এক্ষেত্রে আঙুলের ডগা ফুলে যায় এবং নখের আকৃতিতে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়। এই পরিস্থিতি একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে হয়। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে তা বোঝা কঠিন।
ফিঙ্গার ক্লাবিংয়ের সাধারণ লক্ষণগুলো
আঙুলের ডগা ফুলে যাওয়া বা মোটা হয়ে যাওয়া, নখের নিচের অংশ নরম হয়ে যাওয়া। এর ফলে নখ আলগা হয়ে যায়। আঙুলের চারপাশ দিয়ে নখের ডগা নিচের দিকে বেঁকে যাওয়া, নখের গোড়া (কিউটিকল) থেকে হঠাৎ তীক্ষ্ণ কোণে নখ উপরের দিকে উঠতে থাকা।
অনেক সময় লাং ক্যানসারের কারণে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হয়। ফলে শরীরে তরল জমে। কাজেই আঙুল ফুলে যায়।
নখের পরিবর্তন - নখে ক্ষত, ভঙ্গুর নখ এবং অস্বাভাবিক তাড়াতাড়ি নখ বাড়তে থাকা ফুলফুসে ক্যানসারের উপসর্গ হতে পারে।
আঙুলে ব্যথা, অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিঁঝি ধরা এই লক্ষণগুলো স্নায়ুর সঙ্গে জড়িত। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলে প্যারানিওপ্লাস্টিক সিন্ড্রোম। এটি ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম কারণে হতে পারে।
আঙুল ঠান্ডা বা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া- ক্যানসারের কারণে রক্ত সঞ্চালন দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে আঙুল ঠান্ডা হয়ে যায়।
শুধু ফুস্ফুসের ক্যানসার নয়, ফিঙ্গার ক্লাবিং অন্যান্য অসুখেরও লক্ষণ হতে পারে। যেমন: লিভারের সিরোসিস, লিভার ক্যানসার, ক্রনিক লাং ইনফেকশন, এইচআইভি বা হেপাটাইটিস বি ও সি।
তাই উপরোক্ত যেকোনো লক্ষণ দেখা গেলে একদমই অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।