

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২ ২০২৫, ৭:১৮
.jpg&w=3840&q=100)
ত্বক, চুল এবং নখের পরিবর্তনের মাধ্যমেও অনেক সময় প্রকাশ পায় নীরব ঘাতক থাইরয়েড রোগের লক্ষণ। ছবি: এনডিটিভি
শুধু ওজন বৃদ্ধি বা ক্লান্তি নয় ত্বক, চুল এবং নখের পরিবর্তনের মাধ্যমেও অনেক সময় প্রকাশ পায় নীরব ঘাতক থাইরয়েড রোগের লক্ষণ।
থাইরয়েড প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা গেলে থাইরয়েড রোগ অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, ক্রমাগত ব্যথা, ধীর নিরাময় বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।
থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে যেকোনো ভারসাম্যহীনতা আপনার ত্বক, চুল এবং নখে লক্ষণীয় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই এই লক্ষণগুলো প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা গেলে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা প্রতিরোধ সম্ভব হয়।
ত্বকের পরিবর্তন
ত্বক হল প্রথম পর্যায় যেখানে থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিভিন্ন থাইরয়েডের অবস্থা ত্বকে ভিন্ন ভিন্ন প্যাটার্ন তৈরি করে। যেমন-
হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোন কম থাকলে):
ত্বক শুষ্ক, ফ্যাকাশে ও ঠান্ডা হয়ে যায়। হাত-পায়ের ত্বক ফেটে যেতে পারে।
হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোন বেশি থাকলে):
ত্বক নরম, উষ্ণ ও মসৃণ হয়, তবে খুব সংবেদনশীল থাকে এবং লালচে হয়ে যেতে পারে।
মুখের পরিবর্তন:
চোখের পাতা, ঠোঁট ও জিহ্বার চারপাশ ফুলে যেতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যায় (বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজমে) শরীরে পানি জমে যায় এতে মুখ ধীরে ধীরে গোলাকার বা চওড়া দেখায়। ফোলা ত্বক ও টিস্যুর কারণে মুখের আকার পাল্টে যায়।
ত্বকের রঙ বদলানো:
হাতের তালু, মাড়ি বা মুখের জায়গায় কালচে দাগ হতে পারে। কখনো ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
চোখের সমস্যা:
গ্রেভস ডিজিজে চোখ ফুলে বাইরের দিকে বেরিয়ে আসতে পারে।
ঘামের অস্বাভাবিকতা:
হরমোন বেশি হলে বেশি ঘাম হয়, আর কম হলে ঘাম কমে গিয়ে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
থাইরয়েডের প্রভাবে চুলের পরিবর্তন:
চুল পাতলা ও পড়া:
হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে ভ্রুর বাইরের প্রান্তের চুল পাতলা হয় বা পড়ে যায়।
হাইপারথাইরয়েডিজমে মাথার ত্বক জুড়ে চুল পাতলা হতে পারে, কখনো টাকের মতো দাগও তৈরি হয়।
চুলের গুণগত পরিবর্তন:
হরমোন কমে গেলে চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়।
হরমোন বেশি থাকলে চুল নরম, পাতলা ও সহজে ঝড়ে পড়তে পারে।
শরীরের লোমের পরিবর্তন:
হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় বাহু, পা ও অন্যান্য স্থানের লোম কমে যেতে পারে।
মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য:
মাথার ত্বকে চুলকানি, খুশকি ও চুলের ধীর বৃদ্ধির মতো লক্ষণ দেখা যায়।
নখের পরিবর্তন যা থাইরয়েড সমস্যার ইঙ্গিত দেয়-
থাইরয়েডের সমস্যার কারণে নখের গঠন ও দৃঢ়তাতেও পরিবর্তন আসে। হরমোন কম থাকলে নখের উপরের দিকে ঘন ও ভঙ্গুর দাগ দেখা দেয়, আর হরমোন বেশি থাকলে নখ নরম, চকচকে এবং সহজে ভেঙে যায়। নখের বৃদ্ধি ও ধীর বা দ্রুত হতে পারে—কম হরমোনে ধীরে বেড়ে, বেশি হরমোনে দ্রুত বেড়ে। এছাড়া কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে, যেমন আঙুলের ডগা ফুলে যাওয়া, নখ বাঁকা হয়ে যাওয়া বা নখের উপরে ঘন ত্বক দেখা দেওয়া, যা দীর্ঘমেয়াদে থাইরয়েডের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ফুসকুড়ি না থাকলেও ত্বকে চুলকানি বা সংবেদনশীল হয়ে যাওয়া থাইরয়েডের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। যদিও হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় ত্বক শুষ্ক, নরম এবং ক্রমাগত চুলকানির ঝুঁকিতে থাকে।
আগেই যাদের ত্বকের সমস্যা আছে, তাদের এক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। বিশেষ করে কিছু অটোইমিউন রোগ থাইরয়েডের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যেমন ভিটিলিগো (ত্বকে দাগ), অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা (চুল পড়া)। এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা ব্যক্তিদের থাইরয়েডের স্বাস্থ্য আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
থাইরয়েড রোগে কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন:
যদি আপনার একাধিক লক্ষণ থেকে থাকে যেমন শুষ্ক বা চুলকানিযুক্ত ত্বক, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, ভঙ্গুর নখ, ফোলাভাব বা হালকা ফুসকুরি—তাহলে এখনই একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই লক্ষণগুলো সরাসরি থাইরয়েড রোগ নির্দেশ করে না, তবে চিকিৎসক আপনার অবস্থা পরীক্ষা করে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা দেখার জন্য রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা করলে গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখা যায় এবং সামগ্রিক সুস্থতা ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়।
