পুরুষদের প্রস্টেট ক্যান্সার, এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্তেই বাঁচবে জীবন

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪ ২০২৫, ৭:২০ হালনাগাদ: নভেম্বর ১২ ২০২৫, ১০:৪১

প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। ছবি: ইউনিটি পয়েন্ট হেলথ

প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। ছবি: ইউনিটি পয়েন্ট হেলথ

  • 0

সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ হলো, প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় নীরবে বিস্তার লাভ করে। অনেক সময় কোনও লক্ষণ দেখা যায় না।

অ্যামেরিকান পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সারগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রোস্টেট ক্যান্সার। অ্যামেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ জনের মধ্যে ১ জন পুরুষ জীবদ্দ্দশায় প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা।

প্রস্টেট ক্যান্সার কী:

প্রোস্টেট হলো মূত্রাশয়ের ঠিক নীচে থাকা একটি গ্রন্থি, যা মূত্রনালীকে ঘিরে থাকে। তবে প্রোস্টেট ক্যান্সারের টিউমার সাধারণত গ্রন্থির বাইরের অংশে শুরু হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার প্রায়শই প্রস্রাবের কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না, তাই অনেক পুরুষ প্রথম দিকে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন না। এই কারণে, লক্ষণ দেখা দেওয়ার সময় ক্যান্সার ইতিমধ্যেই জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে।

লক্ষণগুলো শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা পরিকল্পনা যেমন সহজ হয়ে যায় তেমনই ভবিষ্যতে জটিল স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়। তাই এ বিষয়ে পুরুষদের সচেতন থাকা জরুরি।

চলুন জেনে নেই প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো:

প্রস্রাবের পরিবর্তন

প্রোস্টেট ক্যান্সার বা প্রোস্টেট সমস্যার ক্ষেত্রে প্রস্রাবের পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। যেমন-

  • প্রস্রাব শুরু করা বা বন্ধ করা কঠিন হওয়া
  • প্রস্রাবের প্রবাহ দুর্বল বা ‘স্টপ এন্ড-গো’বা প্রস্রাব করার সময় থেমে আবার শুরু হওয়া
  • মূত্রাশয় সম্পূর্ণ খালি না হওয়ার অনুভূতি
  • বারবার প্রস্রাব করার প্রয়োজন, বিশেষ করে রাতের বেলা
  • হঠাৎ প্রস্রাব করার তীব্র ইচ্ছা যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন
  • প্রস্রাব বা বীর্যপাতের সময় ব্যথা
  • এমনকি প্রস্রাব বা বীর্যে অল্প পরিমাণে রক্তও অস্বাভাবিক।

এধরণের সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করা উচিত। এটি সংক্রমণ, কিডনির সমস্যা, অথবা প্রোস্টেটের সমস্যা নির্দেশ করতে পারে।
প্রোস্টেট সমস্যার অন্যান্য সতর্ক সংকেত:

প্রোস্টেট ক্যান্সার বা প্রোস্টেটের অন্যান্য সমস্যা শুধুমাত্র প্রস্রাবের সমস্যাই নয়; শরীরের কিছু অন্য অংশেও লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

  • পিঠের নিচের অংশ, নিতম্ব, শ্রোণী বা উরুতে ক্রমাগত অস্বস্তি বা ব্যথা।
  • বীর্যপাতের সময় ব্যথা বা অস্বস্তি।
  • কোমর ও উরুর মধ্যে, যেখানে প্রোস্টেট থাকে এবং মূত্রাশয় সংলগ্ন পেলভিক অঞ্চলে চাপ বা অস্বস্তি।
  • নতুনভাবে শুরু হওয়া মূত্রের অসংযম বা দ্রুত প্রস্রাবের অনুভূতি।

প্রোস্টেট ক্যান্সার সাধারণত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। তবে যদি লক্ষণ গুরুতর না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়, তবে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

পুরুষদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলো:

নিয়মিত চেকআপ - ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের নিয়মিতভাবে পিএসএ(PSA) পরীক্ষা এবং ডিআরই (DRE) বা ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন) করা উচিত।

লক্ষণ ট্র্যাক করা- প্রস্রাব, ব্যথা বা যৌন ক্রিয়াকলাপের যেকোনো পরিবর্তনের দিকে নজর রাখুন।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন- স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, এবং শাকসবজি, ফলমূল ও শস্য সমৃদ্ধ প্রোস্টেট-বান্ধব খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

চিকিৎসায় অবহেলা করবেন না: কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মূত্রনালী বা পেলভিক অংশে পরিবর্তন দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নিয়মিত স্ক্রিনিং, স্বাস্থ্যসেবা এবং সচেতনতা প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রাথমিকভাবে শনাক্ততের চাবিকাঠি। প্রাথমিক অবস্থায় এ ক্যন্সারের চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর।