অনলাইন কোচের পরামর্শে যেভাবে ৩০ কেজি ওজন কমালেন আশান্তি

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮ ২০২৫, ১:৩২ হালনাগাদ: ডিসেম্বর ৫ ২০২৫, ১৪:১২

অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ওজন কমাতে সক্ষম হন আশান্তি নন্দিকা। ছবি: এসসিএমপি

অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ওজন কমাতে সক্ষম হন আশান্তি নন্দিকা। ছবি: এসসিএমপি

  • 0

পেশাদার প্রশিক্ষক নাদের সিদ্দিকী শুধু ওয়ার্কআউট পরিকল্পনাই দেননি, তিনি পুষ্টি ও ফিটনেস সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করেন এবং অনলাইনে ভিডিওর মাধ্যমে ব্যায়ামের পজিশন ঠিক করে দেন। তিনি ধাপে ধাপে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও ব্যায়াম শেখান। এভাবে প্রায় দুই বছর সময় ধরে কাউন্সেলিং করেন।

হংকংয়ে বসবাসকারী শ্রীলঙ্কার নাগরিক আশান্তি নন্দিকা। ২০২১ সাল থেকে স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এ নারী। অতিরিক্ত ওজনের কারণে তার কর্মক্ষমতাও স্বাভাবিক ছিল না।

সে সময়ে ৩৩ বছরে বয়সী আশান্তির ওজন ছিল ৯৫ কেজি, যা তার পাঁচ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার তুলনায় বেশি।

এমন পরিস্থিতিতে আশান্তি শুরুতে কিটোজেনিক ও কম শর্করাযুক্ত খাদ্যগ্রহণ শুরু করেন। পাশাপাশি একাধিক ট্রেইনারের কাছ গিয়ে ব্যায়াম করেন। এমনকি বুট ক্যাম্পেও অংশ নেন, কিন্তু তাতেও ধরা দিচ্ছিল না সাফল্য।

ওজন কমানোর যাত্রা নিয়ে আশান্তি সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এসসিএমপিকে জানান, শুরুতে কিছুটা ওজন কমলেও তা আবার ফিরে আসত। কারণ ভাত ছিল তার প্রধান খাদ্য। এ ছাড়া তিনি বাইরের তেলজাতীয় খাবারে অভ্যস্ত ছিলেন। এ ধরনের খাদ্যভাস থাকার ফলে কঠোর ডায়েট মেনে চলা কষ্টকর ছিল।

ওজন কমানোটা আশান্তির জন্য শুধু ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জই ছিল না; পারিবারিক কারণেও এমনটি দরকার ছিল তার। বাড়তি ওজনজনিত স্বাস্থ্যগত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তার স্বামী। ওজন না কমালে ভবিষ্যতে গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ছিল তার।

আশান্তি এসসিএমপিকে জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ তাদের নাড়া দেয়। এ ছাড়া আট বছরের মেয়ে আরিয়ার কথা ভেবে হলেও ওজন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তারা।

এমন বাস্তবতায় অনলাইনে স্বাস্থ্যের অবস্থা উন্নত করার নানা উপায় খুঁজতে শুরু করেন আশান্তি, কিন্তু তথ্যের সমুদ্রে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। তবুও হাল ছাড়েননি।

এভাবে একপর্যায়ে গিয়ে অনলাইনে এক কোচকে খুঁজে পান আশান্তি, যার থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পথের দিশা পান তিনি।

আশান্তি ২০২৩ সালে অনলাইনের মাধ্যমে শেখ নাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি কোচকে জানান, তার প্রধান লক্ষ্য সুস্থ হওয়া।

মেদ কমানোর পাশাপাশি শক্তি সঞ্চয় করতে চাইছিলেন আশান্তি। কারণ তিনি প্রায়ই দুর্বল অনুভব করতেন।

পেশাদার প্রশিক্ষক নাদের সিদ্দিকী শুধু ওয়ার্কআউট পরিকল্পনাই দেননি, তিনি পুষ্টি ও ফিটনেস সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করেন এবং অনলাইনে ভিডিওর মাধ্যমে ব্যায়ামের পজিশন ঠিক করে দেন। তিনি ধাপে ধাপে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও ব্যায়াম শেখান। এভাবে প্রায় দুই বছর সময় ধরে কাউন্সেলিং করেন।

আশান্তি জানান, কোনো খাবারে বারণ ছিল না, তবে খাবারের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হতো এবং খাদ্য তালিকায় সঠিক পরিমাণ প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ও ফাইবার থাকত।

কোচ নাদের সিদ্দিকী জানান, তিনি নির্দিষ্ট কোনো ডায়েট মেনে চলেন না। তিন শুধু্ পরিমাণমতো ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেন। তিনি বিশ্বাস করেন নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যগ্রহণের অভ্যাস স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সক্ষম।

আশান্তিকে শুধু জিম বা কঠোর ডায়েটে সীমাবদ্ধ রাখেননি সিদ্দিকী। তিনি তাকে দৈনন্দিন জীবনে যতটা সম্ভব সক্রিয় থাকার জন্য উৎসাহিত করেন।

এর মধ্যে ছিল দিনের বিভিন্ন সময়ে হাঁটাচলা করা এবং স্বামী ও মেয়ের সঙ্গে বাইরে খেলাধুলা করা।

এই নতুন জীবনধারা দ্রুত ফল দিতে শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নন্দিকা ওজন কমাতে শুরু করেন। নিজেকে আরও শক্তিশালী ও উদ্যমী অনুভব করতে থাকেন।

এভাবে কোচের পরামর্শে দুই বছর ধরে ৩০ কেজি ওজন কমাতে সক্ষম হন এক সন্তানের জননী।