
করোনার টিকায় ক্যানসার হয়, এমন দাবি কি করা হয়েছে গবেষণায়?

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩ ২০২৫, ০:০৪ হালনাগাদ: ডিসেম্বর ৬ ২০২৫, ১৫:০৩

কোভিড-১৯-এর টিকা দেওয়া হচ্ছে এক ব্যক্তির দেহে। ছবি: রয়টার্স
- 0
এ ধরনের দাবি ব্যাপক পরিমাণে অপতথ্য ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
করোনাভাইরাস ডিজিজ তথা কোভিড-১৯ টিকার সঙ্গে ছয় ধরনের ক্যানসারের বর্ধিত ঝুঁকির সরাসরি সম্পর্ক একটি গবেষণায় ‘প্রমাণ’ হয়েছে—এমন দাবি করা কনটেন্ট সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে অনলাইনে।
এ ধরনের দাবি ব্যাপক পরিমাণে অপতথ্য ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচিত ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্মগুলোও এমন কনটেন্টকে বৈধতা দিয়েছে।
টিকার সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক গবেষণায় প্রমাণিত দাবি কাদের?
সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এর শিরোনামের শুরুর অংশ ছিল, ‘কোভিড-১৯ টিকার সঙ্গে যুক্ত এক বছরের ক্যানসারের ঝুঁকি।’ শিরোনামটির পরের অংশে কোলন দিয়ে বলা হয়, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশাল জনসংখ্যাভিত্তিক দল গবেষণা’।
যে গবেষণাটির কথা পোস্টে বলা হয়েছে, সেটি প্রকাশ হয় বায়োমেকার রিসার্চ নামের একটি অ্যাকাডেমিক জার্নালে। এটি উন্মুক্ত।
দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষণায় স্বাস্থ্য ইন্স্যুরেন্স ডেটাবেজের পরিসংখ্যান নেওয়া হয়েছে। এতে একটি প্যাটার্ন পাওয়া গেছে। আর সেটি হলো যেসব ব্যক্তি টিকা নিয়েছেন, তাদের মধ্যে এক বছরের সুনির্দিষ্ট কয়েক ধরনের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।
পরিসংখ্যানগত এ পারস্পরিক সম্পর্ককে খুব দ্রুতই সুনির্দিষ্ট ‘প্রমাণ’ হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।
অপতথ্য ছড়ানোর একটি ক্যাম্পেইন শুরু হয়। এর নজর ছিল সুনির্দিষ্ট, উদ্বেগজনক সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানো। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের পেশাগত শংসাপত্রের মাধ্যমে এ বার্তাকে জোরালো করেছেন।
এ ধরনের কাজ করা একটি প্ল্যাটফর্ম ‘ভিজিল্যান্ট ফক্স’। স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ থেকে স্বাধীন সাংবাদিক হওয়া একজন প্ল্যাটফর্মটি প্রতিষ্ঠান করেন। এটি নিজেকে গণমাধ্যম কোম্পানি দাবি করে।
গবেষণাটির প্রচার-প্রসার চালায় ‘ভিজিল্যান্ট ফক্স’। তাদের দাবি, কোভিড-১৯ টিকা সার্বিকভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় ২৭ শতাংশ।
এ ছাড়া ক্যানসারের বিভিন্ন ধরনের বিষয়েও অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ করে প্ল্যাটফর্মটি। তাদের ভাষ্য, টিকায় ফুসফুসের ক্যানসার ৫৩ শতাংশ এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে ৬৯ শতাংশ।
জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী নিকোলাস হালসচারও একই ধরনের অতিরঞ্জনে অংশ নেন। নিজেকে ‘মহামারি বিশেষজ্ঞ’ দাবি করেন এ ব্যক্তি। কোভিড-১৯ টিকা সাত ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে ভুয়া দাবি করেন তিনি।
একই ধরনের দাবি সমর্থন করে পোস্ট করেন পিএইচডিধারী চিকিৎসক পিটার এ ম্যাককালো এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অসীম মালহোত্রা।
অ্যাকটিভিস্ট মালহোত্রা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষণাটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক’। এটি অসমর্থিত অভিযোগে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
এ ছাড়া চিল্ড্রেন’স হেলথ ডিফেন্স নামের একটি সংগঠন বিভ্রান্তিকর এসব বয়ান সমর্থন করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, কোভিডের সব টিকা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, যা নতুন গবেষণার উপসংহার।
প্রচারকারীরা যেভাবে ছড়িয়েছেন অপতথ্য
আল জাজিরার ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা সানাদ প্রকৃত গবেষণাটি যাচাই-বাছাই করে দেখে।
সানাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অপতথ্য প্রচারকারীরা গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ বাদ দিয়েছেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘কার্যকারণ সম্পর্ক ছাড়া মহামারিগত সংযোগ’। এর অর্থ হলো পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক কিংবা দুই ঘটনার মধ্যকার সাধারণ প্যাটার্ন।
অর্থাৎ একটি ঘটনার কারণে আরেকটি ঘটছে, বিষয়টি এমন নয়।
করোনার সঙ্গে টিকার সরাসরি সংযোগ নিয়ে যে দাবি করা হচ্ছে, তার জন্য উপসংহার টানার সীমাবদ্ধতার ওপর জোর দেন দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা।
তাদের ভাষ্য, তারা কার্যকারণ সম্পর্ক নিয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ হাজির করেননি।