কম ওজন ধরে রাখতে চান? ৫ পরামর্শ বছরে ৩০ কেজি কমানো ডাক্তারের

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪ ২০২৫, ০:০৭ হালনাগাদ: মে ২৩ ২০২৬, ২:৪১

সবুজ পাতার পাশে রাখা একটি থালায় ‘ওয়েট লস’ লেখা। ছবি: এনডিটিভি
- 0
সুধীর কুমার জানান, এসব বিষয় মেনে চলার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞা আছে। নিজের ওজন কমানোর যাত্রায় তিনি বিষয়গুলো অনুসরণ করেন।
শরীরের ওজন কমিয়ে তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে দরকার বিরামহীন শৃঙ্খলা, পরিমিত খাবারের বিষয়ে অঙ্গীকার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। এ ক্ষেত্রে ধৈর্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাড়তি ওজন কমানোর যাত্রায় সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হতে পারে দৃশ্যমান ফল প্রাপ্তি।
দ্রুত ফল চাওয়া অনেকের মধ্যেই থাকে সংশয়। বিশেষত খাবার নিয়ে ঝামেলাটা বাধে বেশি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ভারতের হায়দরাবাদের জুবিলি হিলসে অবস্থিত অ্যাপোলো হসপিটালের সিনিয়র নিউরোলজিস্ট ডাক্তার সুধীর কুমার। তার এ পোস্ট শেয়ার করেন অনেকেই।
এনডিটিভি জানায়, পোস্টে ওজন কমানো ও তা ধরে রাখতে খাদ্যাভ্যাসে পাঁচটি সহজ ও কার্যকর পরিবর্তনের পরামর্শ দেন এ চিকিৎসক।
সুধীর কুমার জানান, এসব বিষয় মেনে চলার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞা আছে। নিজের ওজন কমানোর যাত্রায় তিনি বিষয়গুলো অনুসরণ করেন।
এ চিকিৎসক জানান, ২০২০ সালে ৪৯ বছর বয়সে তার ওজন ছিল ১০০ কেজি। সে সময় স্বাস্থ্যগত কিছু সমস্যাও ছিল। এমন বাস্তবতায় ফিটনেসের রুটিন মেনে তিনি ঝেড়ে ফেলেন ৩০ কেজি বাড়তি ওজন।
মেদভুঁড়ি ঝেড়ে ফেলার অভিযান শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকটি ম্যারাথনে অংশ নেন সুধীর। ব্যায়াম, প্রাণবন্ত আহার ও পরিমিত ঘুমের সমন্বয়ে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলেন এ স্বাস্থ্যকর্মী।
দীর্ঘমেয়াদে ওজন কম রাখতে সুধীর কুমার খাদ্যাভ্যাসে যে পাঁচটি পরিবর্তনের পরামর্শ দেন, তা তুলে ধরা হলো টিবিএনের পাঠকদের জন্য।
১. চিনি খাওয়া কমানো
শুধু ডেজার্ট নয়, অন্য অনেক খাবারেও লুকিয়ে থাকে চিনি। চকলেট, রসগোল্লা, আইসক্রিম থেকে শুরু করে কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস, এমনকি ‘স্বাস্থ্যকর’ খাবার হিসেবে পরিচিত খাদ্যেও থাকে চিনি। এটি সর্বত্র।
চিনি খাওয়া কমিয়ে ফেলা বা এড়িয়ে চলার মাধ্যমে আপনার ক্যালোরি গ্রহণ কমবে। এটি ইনসুলিনের মাত্রা কমিয়ে পেটের মেদ কমিয়ে ফেলবে।
সুধীরের মতে, শুধু চিনি কমানোর মধ্য দিয়ে ওজন হ্রাসের যাত্রা ও দীর্ঘমেয়াদি বিপাকীয় স্বাস্থ্যে রূপান্তর আনা সম্ভব।
২. ফুড ডেলিভারি অ্যাপ কমানো
অনলাইনে খাবার অর্ডার করা এখন সহজ, কিন্তু এটি প্রায়ই অতিরিক্ত খাওয়া ও বাজে বাছাইয়ে ধাবিত করে। বিশেষত মধ্যরাতে এ ধরনের খাবার খাওয়া সঠিক পছন্দ নয়। কারণ সে সময় হয় আপনি ক্ষুধার্ত থাকেন না অথবা অনেক বেশি ক্ষুধা থাকে না আপনার পেটে।
ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে যেসব খাবার আনা হয়, সেগুলোতে প্রায়শ প্রচুর ক্যালোরি, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও কম পুষ্টি থাকে।
ডাক্তার সুধীর লিখেন, এ ধরনের অ্যাপের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর মাধ্যমে কোমররেখার পাশাপাশি মানিব্যাগেও পরিবর্তন আনা সম্ভব।
৩. বাসার বাইরে খাওয়া কমানো
অ্যাপোলো হাসপাতালের নিউরোলজিস্টের মতে, যত অভিনবই হোক না, রেস্তোরাঁর খাবার তৈরিই করা হয় সুস্বাদু করে। কাউকে স্বাস্থ্যবান রাখা এর উদ্দেশ্য নয়।
এ চিকিৎসক জানান, রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত তেল, মাখন, লবণ ও লুকায়িত চিনি খাবারগুলোকে মনোমুগ্ধকর করে, তবে এসব খাবার ক্যালোরিঘন। বিপরীতে বাসায় রান্না ও খাওয়া উপাদান ও পরিমাণের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়।
৪. বুফে এড়িয়ে চলা
বুফেতে খেতে গেলে ভালো পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়। সে অর্থ ব্যয়কে অর্থপূর্ণ করতেও অনেকে বেশি খেয়ে থাকেন।
বুফেতে অনেক পদের খাবার থাকায় সাধারণত লোকজন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খান। বিপরীতে আলাদা আলাদা খাবার অর্ডার করলে বুফের চেয়ে কম খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৫. আগেভাগে রাতের খাবার খাওয়া
আগেভাগে, মানে, সন্ধ্যা থাকতে থাকতেই খাবার খেলে পরের দিন সকালে নাশতার জন্য ক্ষুধা তৈরি হয়। গবেষণা বলছে, সময় বেঁধে নিয়ে খেলে তা ওজন কমানোয় সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও হজমে সহায়তা করে।
রাতের খাবারের সঙ্গে সকালের নাশতার ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা ব্যবধান উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা বয়ে আনতে পারে।

