ইচ্ছাশক্তিতে রোগ জয়
৭২ কেজি ওজন কমিয়ে নিজেই এখন ফিটনেস ট্রেইনার

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬ ২০২৫, ২০:১৫ হালনাগাদ: ডিসেম্বর ৩ ২০২৫, ১১:১৭

এমা হুকারের ওজন কমানোর আগের ও পরের চিত্র। কোলাজ: এনডিটিভি

এমা হুকারের ওজন কমানোর আগের ও পরের চিত্র। কোলাজ: এনডিটিভি

  • 0

যারা ওজন কমানো নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন তাদের উদ্দেশে এমা বলেন, ‘ব্যর্থতার কারণ সবসময় অলসতা নয়; বরং আপনার সমস্যা অনুযায়ী কোন পদ্ধতিতে এগোতে হবে, সেটা খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।’

অনেকের কাছে ওজন কমানোর অর্থ খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও নিয়মিত শরীরচর্চা। একই কাজ করতে হয়েছে এমা হুকারকেও, তবে তার এ যাত্রা ছিল না আর দশজনের মতো।

দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ব্যাধি অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার-এডিএইচডি ও খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা বিঞ্জ ইটিং ডিজঅর্ডারে ভুগছিলেন এ নারী, তবে হার মানেননি এমা, তার প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে হেরেছে রোগ।

জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে পর্যায়ক্রমে ৭২ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেন। তার এ গল্প শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম, যা তাকে করে তোলে ভাইরাল।

এমা তার পোস্টে লিখেন, একসময় ওজন কমাতে না পারার জন্য নিজেকেই দায়ী করতেন। নিজেকে অলস ভাবার পাশাপাশি কোনো ইচ্ছাশক্তি নেই বলে মনে করতেন। অথচ তার মূল সমস্যা যে এডিএইচডি, তা বুঝতে লেগে যায় অনেক দিন।

এডিএইচডিতে আক্রান্তরা নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। কোনো কাজে বেশি সময় ধরে মনোযোগ কিংবা সিদ্ধান্তে দীর্ঘক্ষণ অটল থাকতে বেগ পেতে হয় তাদের।

এমা ভুগছিলেন বিঞ্জ ইটিং ডিজঅর্ডারেও, যার ফলে কোনো খাবারের প্রতি আসক্তি তৈরি হলে সেটি খেতে থাকতেন টানা এক সপ্তাহ পর্যন্ত। এডিএইচডির কারণে এ আসক্তি নিয়ন্ত্রণ করাও ছিল চ্যালেঞ্জিং।

পরিবর্তনের সূচনা যেভাবে

মানসিক রোগ চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে নিরাময় পর্বের সূচনা করেন এমা। রোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পর খাবার তালিকায় আনেন কৌশলগত পরিবর্তন।

বর্তমানে ফিটনেস ট্রেইনার হিসেবে কাজ করা এ নারী জানান, কখনও এক পদ নিয়ে খাবার টেবিলে বসতেন না। দুই থেকে তিন পদ খাবার সামনে রেখে নির্দিষ্ট পরিমাণ মেনে খাবার খেতে শুরু করেন তিনি। এতে করে মস্তিষ্ক সুনির্দিষ্ট কোনো খাবারে আসক্ত হওয়ার সুযোগ পেত না।

তার ভাষ্য, প্রচণ্ড ধৈর্যশক্তি ও মনোবলের মাধ্যমে মনোযোগ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে ৭২ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেন।

প্রত্যাশিত ওজনে যেতে এখনও খাদ্যাভ্যাস অব্যাহত রাখছেন এমা। তার কাছে ডায়েটিং মানে শুধু স্লিম ও স্বাস্থ্যকর শরীর পাওয়ার উপায় নয়; বরং অনেক কিছু শেখা, নিয়ন্ত্রণ ও নিজেকে ভালোবাসতে শেখার যাত্রা।

সিদ্ধান্ত ও কাজ নিয়ন্ত্রণজনিত ব্যধি এডিএইচডিতে ভোগা এ নারী তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আরও লিখেন, ‘এখন আমি কোনো কাজে থামতে ও ভালোবাসতে শিখেছি। নিজেকে দোষী না ভেবে আন্তরিক হতে শিখেছি।‘

যারা ওজন কমানো নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন তাদের উদ্দেশে এমা বলেন, ‘ব্যর্থতার কারণ সবসময় অলসতা নয়; বরং আপনার সমস্যা অনুযায়ী কোন পদ্ধতিতে এগোতে হবে, সেটা খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাদের জন্য আমার পরামর্শের দরজা সবসময় খোলা।’

এমার এই পোস্ট সাড়া ফেলেছে নেটিজেনদের মধ্যে। তাদের প্রশংসায় ভাসছেন উদ্যমী এ নারী।