বিরল ‘মস্তিষ্ক-খেকো’ অ্যামিবা সংক্রমণ:
ভারতে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, বাংলাদেশে ঝুঁকি কতটুকু

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬ ২০২৫, ৬:৪০ হালনাগাদ: মার্চ ২ ২০২৬, ১:১৯

মেনিনগোয়েনসেফালাইটিস (পিএএম) নামক এই রোগটিকে মস্তিষ্ক-খেকো' অ্যামিবা বলা হয়। ছবি: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

মেনিনগোয়েনসেফালাইটিস (পিএএম) নামক এই রোগটিকে মস্তিষ্ক-খেকো' অ্যামিবা বলা হয়। ছবি: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

  • 0

সাধারণত পুকুর, নদী বা নিম্নমানের ক্লোরিনযুক্ত পুকুরে সাঁতারের সময় নাক দিয়ে এটি দেহে প্রবেশ করে থাকে।

'মস্তিষ্ক-খেকো' অ্যামিবার কারণে সৃষ্ট মারাত্মক সংক্রমণ 'মেনিনগোএনসেফালাইটিস'- আক্রমণে বিপর্যস্ত ভারত। দেশটির কেরালা রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর ভয়ংকর এই অ্যামিবা সংক্রমণে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মারা গেছেন। পাশাপাশি এ বছরের ৯ মাসে মোট ৬৬ জন বিরল এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

রাজ্যটির স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিদপ্তর জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর দুটি নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে চলতি মাসেই সংখ্যা ১৯ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ল এবং সেই সঙ্গে মারা যান সাত জন।

প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোয়েনসেফালাইটিস (পিএএম) নামক এই রোগটি নেগেলেরিয়া ফাউলেরি অ্যামিবার সৃষ্ট। একে প্রায়শই 'মস্তিষ্ক-খেকো' অ্যামিবা বলা হয়। এটি অত্যন্ত বিরল তবে মারাত্মক। এই সংক্রমণে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর হার ৯৭ শতাংশ হলেও, কেরালার বর্তমানে এই হার ২৪ শতাংশ।

দূষিত মিঠা পানি যখন নাকে প্রবেশ করে, তখন অ্যামিবা মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয় বলে ধারণা করা হয়। সাধারণত পুকুর, নদী বা নিম্নমানের ক্লোরিনযুক্ত পুকুরে সাঁতারের সময় নাক দিয়ে এটি দেহে প্রবেশ করে থাকে। এই অ্যামিবা সাধারণত গরম পানিতে (২৫–৪৬° সেলসিয়াস) বেশি বৃদ্ধি পায়।

তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এই ধারণাগুলোকে পাল্টে দিচ্ছে। পুকুরের সংস্পর্শে না আসা তিন মাস বয়সী একটি শিশুর এটি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া যারা কেবল বাড়িতে গোসল করতেন, তাদের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটেছে। এটি অজানা সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

তবে এই সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়। বাংলাদেশে ২০২০ সালে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের মধ্যে প্রথম নিশ্চিত পিএএম সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে।

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে এ রোগের ঝুঁকি খুবই কম। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিষ্কার পানি ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলও নাক দিয়ে কাঁচা/অপরিষ্কার পানি না টানা, পানির উৎস নিয়মিত পরিস্কার রাখা, আর ক্লোরিনেশন নিশ্চিত করা।