

প্রকাশিত: অক্টোবর ২২ ২০২৬, ১৬:৪২ হালনাগাদ: অক্টোবর ২২ ২০২৬, ১৬:৪৭

শামোন্ডা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয় গবাদি পশু গরু। ছবি: রয়টার্স
ফ্রান্সে গবাদিপশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া শামোন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মানুষের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। তবে এ মুহূর্তে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখছে না ফরাসি কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
গবাদিপশুর ভাইরাস হিসেবে পরিচিত শামোন্ডার সংক্রমণে ফ্রান্সে এক ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ভাইরাসটির প্রভাবে এটি প্রথম কোনো মানুষের মৃত্যুর ঘটনা।
ফ্রান্সের সরকার বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে মৃত্যুর তথ্য।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলে ভাইরাসবাহী একটি ক্ষুদ্র দংশনকারী কীটের কামড়ে নিহত ব্যক্তি সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। চলতি বছরের বসন্ত ও গ্রীষ্মে ওই অঞ্চলের প্রাণীদের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল।
ইউরোপীয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল-ইসিডিসি জানায়, আক্রান্ত ব্যক্তি চলতি বছর অক্টোবরের শুরুতেই মারা যান। তবে মৃত্যুর কারণ পরে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি লিওঁ অঞ্চলে বসবাস করতেন। ওই ব্যক্তি গুরুতর একটি অসুস্থতার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ কারণে সাধারণ মানুষের তুলনায় তার সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি ছিল।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন-ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, মানবদেহে শামোন্ডার প্রভাবে মৃত্যুর ঘটনায় তারা ফরাসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে বর্তমান তথ্য ও কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে বিদ্যমান জ্ঞানের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে মানুষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংক্রমণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এ মুহূর্তে ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও কম বলে জানায় ডব্লিউএইচও।
শামোন্ডা ভাইরাস কী
এটি হল অর্থবুনিয়াভাইরাস গোত্রের একধরনের পতঙ্গবাহিত ভাইরাস। সাধারণত মিডজেস নামের অত্যন্ত ছোট আকারের এক মাছির কামড়ে এ ভাইরাসের সংক্রমণ হয়। ১ থেকে ৩ মিলিমিটারের আকারের এ মাছিগুলো কুলিকয়েডিস প্রজাতির। তবে সাধারণ মশা মাছি থেকে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটে না।
মানুষের জন্য নতুন, পশুর জন্য আতঙ্ক
ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমেল হেলথ-ডব্লিউওএএইচের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ না হলেও, পশুদের জন্য মরণঘাতী শামোন্ডা ভাইরাস।
গরুর মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি দেখা গেলেও ঘোড়া, আলপাকা, ভেড়া ও ছাগলের মধ্যেও এটি শনাক্ত হয়েছে।
১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি নাইজেরিয়ায় প্রথম শনাক্ত হয় শামোন্ডা ভাইরাস। ইউরোপে প্রথম এর উপস্থিতি নিশ্চিত হয় গত জুলাইয়ের শেষ দিকে। দক্ষিণ জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও পূর্ব ফ্রান্সের অসুস্থ গবাদিপশুর নমুনায় জিনগত পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
ফ্রান্সের সাপ্তাহিক প্রাণিস্বাস্থ্য নজরদারি বুলেটিন অনুযায়ী, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লিশটেনস্টাইন, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্পেন এবং ব্রিটেনের জার্সি দ্বীপেও ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাণিস্বাস্থ্য আইনে শামোন্ডা ভাইরাসকে কোনো রোগ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। ফলে ভাইরাসটির জন্য আনুষ্ঠানিক নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও নেই।
