একটি পরীক্ষায় ক্যানসার ধরা পড়তে পারে ১০ বছর আগে

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬ ২০২৫, ১৯:১৭

রোগীর শরীর থেকে সিরিঞ্জ দিয়ে টানা হচ্ছে রক্ত। ছবি: এনডিটিভি

রোগীর শরীর থেকে সিরিঞ্জ দিয়ে টানা হচ্ছে রক্ত। ছবি: এনডিটিভি

  • 0

হার্ভার্ড সংযুক্ত ম্যাস জেনারেল ব্রিগহ্যাম তাদের গবেষণার ফলটি প্রকাশ করে জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটে।

বিজ্ঞানীর এমন একটি পরীক্ষা উদ্ভাবন করেছেন, যা শরীরে লক্ষণ দেখা দেওয়ার ১০ বছর আগে শনাক্ত করতে পারে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার।

এনডিটিভি জানায়, হার্ভার্ড সংযুক্ত ম্যাস জেনারেল ব্রিগহ্যাম তাদের গবেষণার ফলটি প্রকাশ করে জার্নাল অব দ্য ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটে।

আগে থেকে ক্যানসার ধরা পড়লে চিকিৎসায় বেশি সাফল্য পেতে পারেন রোগীরা।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যামেরিকায় মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস তথা এইচপিভি। তা সত্ত্বেও এইচপিভি সংক্রান্ত মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের কোনো পরীক্ষা এতদিন ছিল না।

বিষয়টি আমলে নিয়ে গবেষকরা অভিনব তরল বায়োপসি পরীক্ষা উদ্ভাবন করেছেন, যার নাম এইচপিভি-ডিপসিক। লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই এইচপিভি সংক্রান্ত মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার শনাক্ত করা যাবে পরীক্ষাটির মাধ্যমে।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ও হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড্যানিয়েল এল ফ্যাডেন বলেন, তাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো লক্ষণহীন লোকজনের মধ্যে এইচপিভি সংশ্লিষ্ট ক্যানসার নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা গেছে। ক্যানসারের পরীক্ষা না করারও অনেক বছর আগে রোগটি ধরা পড়েছে।

তিনি আরও জানান, রোগীরা যখন লক্ষণ নিয়ে ক্লিনিকগুলোতে প্রবেশ করেন, তাদের এমন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা উল্লেখযোগ্য ও জীবনভর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

তাদের আশা, এইচপিভি-ডিপসিকের মতো উপকরণ এ ধরনের ক্যানসারকে খুবই প্রাথমিক স্তরে শনাক্ত করতে পারবে, যা রোগীর কল্যাণের পাশাপাশি জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাবে।

গবেষণার অংশ হিসেবে গবেষকরা ৫৬টি নমুনা পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ২৮টি নমুনা এমন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া, যাদের জীবনের পরবর্তী বছরগুলোতে ক্যানসার ধরা পড়ত। বাকি ২৮ জন ছিলেন সুস্থ ব্যক্তি।

পরীক্ষা করে দেখা যায়, যাদের জীবনের পরবর্তী বছরগুলোতে ক্যানসার ধরা পড়ত, সেই ২৮ জনের মধ্যে ২২ জনের মধ্যেই এইচপিভি টিউমার ডিএনএ ধরা পড়ে। অন্যদিকে সুস্থ ২৮ ব্যক্তির প্রত্যেকের ক্যানসারের ফল নেগেটিভ আসে। এর মধ্য দিয়ে পরীক্ষাটির সুনির্দিষ্টতার প্রমাণ মেলে।