মাছের আঁশ দিয়ে কৃত্রিম কর্নিয়া তৈরি, চোখের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ১০ ২০২৬, ১৩:৩৫

স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব গ্রানাডার গবেষকরা বাজারে সহজলভ্য কয়েক ধরনের মাছের আঁশ ব্যবহার করে কৃত্রিম কর্নিয়া তৈরি করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব গ্রানাডার গবেষকরা বাজারে সহজলভ্য কয়েক ধরনের মাছের আঁশ ব্যবহার করে কৃত্রিম কর্নিয়া তৈরি করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

  • 0

গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ এবং বায়োমেডিক্যাল গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইবিএস গ্রানাডার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তারা মাছের আঁশ ব্যবহার করে এমন কর্নিয়া ইমপ্ল্যান্ট তৈরি করেছেন যা স্বচ্ছ, শক্তিশালী এবং মানবদেহের সঙ্গে উচ্চমাত্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ।

স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব গ্রানাডার গবেষকরা বাজারে সহজলভ্য কয়েক ধরনের মাছের আঁশ ব্যবহার করে কৃত্রিম কর্নিয়া তৈরি করেছেন। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এটি গুরুতর চোখের রোগে কম খরচে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের বিকল্প হতে পারে।

কর্নিয়া হলো চোখের সামনের স্বচ্ছ স্তর, যা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সহজে নিজে থেকে ঠিক হতে পারে না। কারণ এতে রক্তনালী নেই এবং পুনর্গঠনের ক্ষমতাও সীমিত। সাধারণত গুরুতর কর্নিয়া রোগের চিকিৎসায় দাতা কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়, কিন্তু অঙ্গদানের সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকার কারণে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।

গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিস্যু ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ এবং বায়োমেডিক্যাল গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইবিএস গ্রানাডার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তারা মাছের আঁশ ব্যবহার করে এমন কর্নিয়া ইমপ্ল্যান্ট তৈরি করেছেন যা স্বচ্ছ, শক্তিশালী এবং মানবদেহের সঙ্গে উচ্চমাত্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গবেষণার সহলেখক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ইনগ্রিড গারযন বলেন, এই প্রযুক্তির একটি বড় সুবিধা হলো এর কাঁচামাল সহজলভ্য এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে পাওয়া যায়। এতে স্থানীয় মাছ ধরার শিল্পও উপকৃত হতে পারে।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং পরীক্ষামূলক প্রাণীর ওপর প্রয়োগে এই কৃত্রিম কর্নিয়া ভালো কার্যকর ফল দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তবে প্রযুক্তিটি এখনো মানুষের ওপর ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়। মানবদেহে প্রয়োগের আগে আরও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

একই গবেষণার সহলেখক হিস্টোলজি অধ্যাপক মিগুয়েল অ্যালামিনোস বলেন, “দাতা কর্নিয়া প্রতিস্থাপন অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফল দেয়। তবে অঙ্গদানের ওপর নির্ভর না করে নতুন কার্যকর পুনর্জন্ম প্রযুক্তি উন্নয়ন করা জরুরি, কারণ দাতা কর্নিয়ার জন্য অপেক্ষার তালিকা দীর্ঘ।”

গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি সফলভাবে মানবদেহে প্রয়োগ করা গেলে বিশ্বজুড়ে কর্নিয়া রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে এবং কম খরচে চিকিৎসা পাওয়া সহজ হবে।