Skip to main content

অ্যামেরিকায় মৃত্যু বাড়াচ্ছে মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া, ঝুঁকিতে কারা?

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৮ ২০২৫, ১৯:০৬

চামড়ার উন্মুক্ত ক্ষতস্থান দিয়ে দেহে প্রবেশ করতে পারে ব্যাকটেরিয়াটি। ছবি: দ্য ন্যাশনাল ডেস্ক

চামড়ার উন্মুক্ত ক্ষতস্থান দিয়ে দেহে প্রবেশ করতে পারে ব্যাকটেরিয়াটি। ছবি: দ্য ন্যাশনাল ডেস্ক

  • 0

শরীরের টিস্যুতে পচন ধরানো এ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে চলতি বছর ফ্লোরিডায় কমপক্ষে পাঁচ, লুইজিয়ানায় চার এবং নর্থ ক্যারোলিনার আউটার ব্যাংকসে একজনের মৃত্যু হয়।

অ্যামেরিকার দক্ষিণপূর্ব উপকূলীয় এলাকায় মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়াজনিত মৃত্যু বাড়ছে বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।

সংবাদমাধ্যমটি শুক্রবার জানায়, শরীরের টিস্যুতে পচন ধরানো এ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে চলতি বছর ফ্লোরিডায় কমপক্ষে পাঁচ, লুইজিয়ানায় চার এবং নর্থ ক্যারোলিনার আউটার ব্যাংকসে একজনের মৃত্যু হয়।

প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়াটির নাম ভিবরিও ভালনিফিকাস। এর বাস সমুদ্রের উষ্ণ জলে।

স্টেইটের হেলথ ডিপার্টমেন্ট জানায়, চলতি বছর এ যাবত ১৬টি ভিবরিও ভালনিফিকাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দেখেছে ফ্লোরিডা। এ ছাড়া লুইজিয়ানায় সংক্রমণের ১৭টি ঘটনা ঘটেছে, যা গত বছরের বার্ষিক গড়ের চেয়ে বেশি।

নর্থ ক্যারোলিয়ায় চলতি বছর সাতটি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করে স্টেইটের ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস।

মিসিসিপিতে এ বছর সংক্রমণের তিনটি ঘটনা পাওয়ার কথা জানিয়েছে স্টেইটের হেলথ ডিপার্টমেন্ট।

ফ্লোরিডায় প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়াটির সংক্রমণজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে উপকূলবর্তী কাউন্টিগুলোতে। এর মধ্যে রয়েছে প্যানহ্যান্ডেলের বে কাউন্টি,গালফ কোস্টের হিলসবোরো কাউন্টি, যেখানে ট্যাম্পা অবস্থিত, দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরিডার ব্রাউয়ার্ড কাউন্টি এবং জ্যাকসনভিলের ঠিক দক্ষিণের সেন্ট জন্স কাউন্টি।

যেভাবে ছড়ায় দেহে

সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-সিডিসি ব্যাকটেরিয়াটির সংক্রমণ প্রক্রিয়া জানিয়েছে।

সিডিসির মতে, চামড়ার উন্মুক্ত ক্ষতস্থান দিয়ে দেহে প্রবেশ করতে পারে ব্যাকটেরিয়াটি। এটি আশপাশের টিস্যুগুলোকে মেরে ফেলতে পারে। অবস্থাটি নেক্রোটাইজিং ফ্যাসিটিস বা মাংসখেকো রোগ হিসেবে পরিচিত।

দূষিত খাবার খেয়েও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন লোকজন। বিশেষত কাঁচা ঝিনুক থেকে এ ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে মানবদেহে। ফ্লোরিডায় লোকজন কীভাবে এ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিডিসির মতে, ভিবরিও ভালনিফিকাস ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঘটনায় প্রতি পাঁচজনে প্রায় একজনের মৃত্যু হয়।

কী বলেন গবেষক

ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার প্রকৌশলের অধ্যাপক অন্তরপ্রিত জুটলা গবেষণা করেছেন ভিবরিও ব্যাকটেরিয়া নিয়ে। তিনি জানান, এ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এখনও বিরল। যদিও হারিকেনের পর এ ধরনের সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা থাকে।

গত বছর ফ্লোরিডায় সংক্রমণের ৮২টি ঘটনা ঘটে। চরম সক্রিয় হারিকেন মৌসুমের কারণে সংক্রমণের বৃদ্ধি ঘটে থাকতে পারে।

ভিবরিও ভালনিফিকাস কী

ভিবরিও ব্যাকটেরিয়ার দুই শতাধিক প্রজাতির একটি ভিবরিও ভালনিফিকাস বলে জানান ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডের প্রফেসর ইমেরিটা রিটা কোলওয়েল। অন্যদিকে গবেষক জুটলা জানান, বেশির ভাগ ভিবরিও সংক্রমণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। অল্প কিছু ভিবরিও ব্যাকটেরিয়া মানুষ বাদে অন্য প্রাণীদের আক্রান্ত করে।

বছরে কত সংক্রমণ

ওহাইর ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষকে আক্রান্ত করে ভিবরিও ব্যাকটেরিয়া। বেশির ভাগ আক্রান্তের ঘটনা ঘটে পাকস্থলি ও অন্ত্রে। এত সংক্রমণের মধ্যে ১০০ থেকে ২০০টি ঘটায় ভিবরিও ভালনিফিকাস।

ভিবরিও প্যারাহিমোলিটিকাস ও ভিবরিও অ্যালজিনোলিটিকাসের মতো অন্য প্রজাতিগুলো পাকস্থলির অসুস্থতা তৈরি করে। ভিবরিও কলোরেই নামের প্রজাতি ডায়রিয়াজনিত রোগ কলেরা সৃষ্টি করে।

ভিবরিও ব্যাকটেরিয়া উষ্ণ পানি পছন্দ করায় এগুলো সাধারণত পাওয়া যায় অ্যামেরিকার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় সৈকতে, তবে পশ্চিম উপকূলেও এগুলো পাওয়া গেছে।

জুটলার মতে, সাগরের তাপমাত্রা বাড়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউ ইয়র্ক, কানেকটিকাট ও ম্যারিল্যান্ডেও এ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

সংক্রমণের ঝুঁকিতে কারা

ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা হেলথের সংক্রামক রোগের চিকিৎসক ড. নরম্যান বিটি জানান, নোনা জলে সময় কাটানোর পর উন্মুক্ত ক্ষতস্থানে দিয়ে ঢুকতে পারে ভিবরিও ব্যাকটেরিয়া। তার ভাষ্য, তার কাছে আসা আক্রান্ত লোকজনের বেশির ভাগ পানিতে বেশি সময় কাটিয়েছেন, তবে পানিতে সামান্য সময় থাকলেও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটতে পারে।

বিটি জানান, সংক্রমণের দৃশ্যমান আলামত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দেহের নির্দিষ্ট অংশ লালচে হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া এবং ফোস্কা পড়া। আক্রান্ত স্থানে ব্যথাও থাকবে।

সংক্রমণ বাড়তে বাড়তে রক্তপ্রবাহ নাগাদ চলে যেতে পারে। এ থেকে প্রাণঘাতী সেপসিস বা পচনও সৃষ্টি হতে পারে।

সিডিসির মতে, সেপসিসের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, ঠান্ডা ও মারাত্মক কম রক্তচাপ ।

যারা লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত, যাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল কিংবা যাদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, তারা সংক্রমণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে আছেন বলে জানান জুটলা।

ভিবরিও ভালনিফিকাস সংক্রমণের চিকিৎসা হতে পারে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে।

কীভাবে সংক্রমণ থেকে বাঁচা সম্ভব

এ ক্ষেত্রে বিটির পরামর্শ হলো সমুদ্রে নামার আগে উন্মুক্ত ক্ষতস্থান ঢেকে দেওয়া। তার মতে, পানিরোধী ব্যান্ডেজ পরেও পানিতে নামা যেতে পারে।

বিটি জানান, কেউ নিজেকে আক্রান্ত মনে করলে তার উচিত দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া। চিকিৎসা নিতে দেরি করলে হালকা সংক্রমণ থেকে শুরু করে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।