চীনের প্রায় ১০টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে এনভিডিয়ার শক্তিশালী এইচ টু হানড্রেড (H200) এআই চিপ কেনার অনুমতি দিয়েছে অ্যামেরিকা। তবে অনুমোদন মিললেও এখন পর্যন্ত একটি চিপও সরবরাহ করা হয়নি। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের প্রযুক্তি টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএস কমার্স ডিপার্টমেন্ট আলিবাবা, টেনসেন্ট, বাইটড্যান্স এবং জেডি ডটকমসহ কয়েকটি বড় চায়নিজ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে এনভিডিয়ার H200 এআই চিপ কেনার অনুমোদন দিয়েছে। একই সঙ্গে লেনোভো ও ফক্সকনের মতো কিছু ডিস্ট্রিবিউটরও এই অনুমতির আওতায় রয়েছে।
H200 হচ্ছে এনভিডিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এআই চিপ, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও ডেটা প্রসেসিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রযুক্তি খাতে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।
তবে অনুমোদন দেওয়া হলেও বাস্তবে এখনো কোনো চালান চীনে পৌঁছায়নি। কারণ বেইজিং নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে এগিয়ে নিতে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল নিয়েছে। ফলে চীন সরকার দেশীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে H200 অর্ডার স্থগিত রাখতে বলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বেইজিং সফরে যোগ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দীর্ঘদিনের প্রযুক্তি বিরোধে অগ্রগতি আনা এবং H200 চিপ বিক্রির পথ খুলে দেওয়া।
অ্যামেরিকার ভেতরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থী নীতিনির্ধারকদের একাংশ আশঙ্কা করছে, উন্নত এআই চিপ চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে এনভিডিয়া বলছে, অতিরিক্ত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা অ্যামেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাজার হারানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
একসময় চীনের বাজার থেকেই এনভিডিয়ার মোট আয়ের প্রায় ১৩ শতাংশ আসত। কিন্তু সাম্প্রতিক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে দেশটিতে কোম্পানিটির বাজার অংশীদারিত্ব দ্রুত কমেছে। এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং আগেই সতর্ক করেছিলেন, পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে অ্যামেরিকা নিজেই বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।
এদিকে চীনও নিজেদের বিকল্প প্রযুক্তি তৈরিতে জোর দিচ্ছে। হুয়াওয়ে ও অন্যান্য স্থানীয় চিপ নির্মাতাদের পেছনে বড় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে বেইজিং। ফলে চীন এখন অ্যামেরিকান প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুমোদন অ্যামেরিকা-চীন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বিশেষ করে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এটি প্রযুক্তি খাতে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই খবর প্রকাশের পর ওয়াল স্ট্রিটে এনভিডিয়ার শেয়ারের দামও বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, চীনের বাজারে আংশিক প্রত্যাবর্তন কোম্পানিটির জন্য বড় আর্থিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।