লাগেজ নিয়ে তর্ক, কর্মচারীদের ওপর নৃশংস আক্রমণ সেনা কর্মকর্তার
কর্মীদের আক্রমণ করছেন সেনা কর্মকর্তা। ছবি: এনডিটিভি
- 0

কর্মীদের আক্রমণ করছেন সেনা কর্মকর্তা। ছবি: এনডিটিভি

প্রকাশিত: আগস্ট ৩ ২০২৫, ৯:৫৩ হালনাগাদ: জুলাই ১৮ ২০২৬, ১৭:৫৫
.jpg&w=3840&q=75)
বিমানবন্দরে সহিংস ঘটনা যেন নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। এবার ভারতের শ্রীনগর বিমানবন্দরে অতিরিক্ত লাগেজ বহন নিয়ে শুরু হওয়া তর্ক রূপ নিয়েছে সহিংসতায়।
ঘটনার জেরে এক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় বিমান সংস্থা স্পাইসজেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শ্রীনগর বিমানবন্দরে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তার হামলায় তাদের ৪ কর্মচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে একজনের মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং চোয়ালে গুরুতর আঘাত লাগে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ২৬ দিল্লিগামী একজন যাত্রীর সাথে এ ঘটনা ঘটে। শ্রীনগর থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইট এসজে-৩৮৬ এর বোর্ডিং গেটে একজন যাত্রী স্পাইসজেটের চারজন কর্মচারীকে গুরুতরভাবে শারীরিক নির্যাতন করেন।
স্পাইসজেট জানিয়েছে যে সেনা কর্মকর্তা ঐ যাত্রী ১৬ কেজি ওজনের দুটি কেবিন লাগেজ বহন করছিলেন, যা অনুমোদিত ৭ কেজির সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। অতিরিক্ত লাগেজের জন্য তাকে অর্থ প্রদান করতে হবে বলে জানানো হয়। তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘন করে বোর্ডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই জোর করে অ্যারোব্রিজে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনী ঘটনাটি আমলে নিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং বেসামরিক তদন্তে সহায়তা করছে। তবে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তার নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
অনলাইনে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে যে অফিসারটি স্পাইসজেট কর্মীদের ওপর একটি জিনিস হাতে নিয়ে আক্রমণ করছেন এবং বারবার আঘাত করছেন যতক্ষণ না সিআইএসএফ কর্মীরা তাকে নিয়ে যান।
ভিডিওতে দেখা যায়, স্পাইসজেটের একজন কর্মচারী অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। এরপরেও সেনা কর্মকর্তা সে কর্মচারীকে লাথি মারতে থাকেন। অপর এক কর্মী অজ্ঞান হয়ে পড়া সহকর্মীকে সাহায্য করার জন্য নিচু হন। এসময় তার চোয়ালে জোরে লাথি মারেন ঐ যাত্রী। মুহূর্তেই তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
আহত কর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।
স্পাইসজেট স্থানীয় পুলিশের কাছে একটি এফআইআর দায়ের করেছে এবং বিমানবন্দরের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ হস্তান্তর করেছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত সেনাকে সংস্থাটির নো-ফ্লাই লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।
