রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও বনানীতে মধ্যরাতে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালে পার্কিং করে রাখা সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। একই রাতে বনানীতে সেতু ভবনের কাছেও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
এদিকে রাত একটার পর মহাখালী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশে পার্কিং করে রাখা সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই আব্দুল হামিদ জানান, আগুনে বাসটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে পরিকল্পিত নাশকতা হিসেবে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, একটি গোষ্ঠী এসব ঘটনার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
রোববার দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্য রয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের টহল, পিকেট ডিউটি ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ককটেল তৈরির উপাদান কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে, সে বিষয়েও নজরদারি চলছে বলে জানান আকতার হোসেন। তার ভাষ্য, এর আগে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে বিস্ফোরক পদার্থ উদ্ধার করেছে ডিবি। নাশকতার উদ্দেশ্যে দাহ্য পদার্থ কেনাবেচা হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।