প্যারিস টানেলে কি ঘটেছিলো প্রিন্সেস ডায়ানার সঙ্গে?

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ৩১ ২০২৫, ১২:২৩

ডায়ানার মৃত্যুকে ঘিরে কনস্পিরেসি থিওরিগুলো এখনও আলোচনায় আছে। ছবি: এপি
- 0
রাত ১২ টা ২০ মিনিটে হোটেলের পেছনে একটি অপেক্ষমাণ মার্সিডিজে উঠে পড়েন ডায়ানা ও ডোডি।
২৮ বছর আগে আজকের এই দিনটিতে খবর আসে ওয়েলসের প্রিন্সেস ডায়ানা প্যারিসে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। সংবাদপত্র তাদের প্রথম পাতার খবর নতুন করে সাজায়, আর টেলিভিশনের পর্দায় বারবার একই শিরোনাম দেখা যায়, ‘দ্য পিপলস প্রিন্সেস ওয়াজ গন’।
১৯৯৭ সালের ৩১শে আগস্ট ভোরবেলা, ৩৬ বছর বয়সী এই লাস্যময়ী নারী তার তৎকালীন সঙ্গী ডোডি আল-ফায়েদের সাথে একটি কালো মার্সিডিজে পা রাখেন। রিটজ হোটেলের নিরাপত্তা প্রধান হেনরি পল গাড়ি চালাচ্ছিলেন, আর দেহরক্ষী ট্রেভর রিস-জোন্স সামনে বসে ছিলেন।
কয়েক মিনিট পরে, গাড়িটি পন্ট দে ল'আলমা টানেলের ১৩তম পিলারে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় ডোডি এবং পল ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিকভাবে মারা যান। উদ্ধারকারীরা রিস-জোন্সকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করেন। চিকিৎসকরা ডায়ানাকে বাঁচানোর সবোর্চ্চ চেষ্টা করেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ভোর ৪টায় হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায় প্রিন্সেস ডায়ানার।
প্রিন্সেস ডায়ানার শেষ সময়
সে রাতে ডায়ানা ডোডির বাবা মোহাম্মদ আল-ফায়েদের মালিকানাধীন হোটেল রিটজে খাবার খান। এসময় তার সাথে ডোডিও ছিলেন। এসময় ফটোগ্রাফাররা হোটেলের সামনের প্রবেশপথে ডায়ানার এক ঝলক ক্যামেরা বন্দি করার জন্য ভিড় জমায়। তাদের এড়াতে, রাত ১২ টা ২০ মিনিটে হোটেলের পেছনে একটি অপেক্ষমাণ মার্সিডিজে উঠে পড়েন ডায়ানা ও ডোডি।
রাত ১২ টা ২৩ মিনিটের দিকে গাড়িটি দ্বিগুণেরও বেশি গতিতে আলমা টানেলের ভেতরে পিলারে ধাক্কা খায়।
খবর পেয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফ্রেডেরিক মেলিয়েজ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করেন। এসময় প্রিন্সেস ডায়ানার জ্ঞান ছিলো, তবে তিনি গুরুতর আহত ছিলেন।আহত ডায়ানা ফিসফিসিয়ে বলে ওঠেন , ‘হে ঈশ্বর... আমাকে একা থাকতে দিন।’
চিকিৎসকরা তাকে পিটি-সালপেট্রিয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে সার্জনরা প্রিন্সেসের অভ্যন্তরীণ রক্তপাত বন্ধ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। ভোরবেলা খবর আসে ভবিষ্যৎ ‘কুইন অফ ইংল্যান্ড’ আর নেই।
মৃত্যু রহস্য
১৯৯৯ সালে ফরাসি তদন্তকারীরা এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, গাড়ি চালক হেনরি পল, নেশাগ্রস্ত এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধের অধীনে ছিলেন। পাপারাজ্জিরা ডায়ানার ছবি তোলার জন্য ধাওয়া করার সময় তিনি মার্সিডিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
২০০৮ সালে একটি ব্রিটিশ তদন্তে পলের বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং তাদের ধাওয়া করা ফটোগ্রাফারদের কারণে এই দুর্ঘটনাকে ‘বেআইনি হত্যাকাণ্ড’ ঘটেছিল বলে উল্লেখ করে।
তবুও ডায়ানার মৃত্যুকে ঘিরে কনস্পিরেসি থিওরিগুলো এখনও আলোচনায় আছে। রহস্যময় সাদা ফিয়াট উনো গাড়ি, যা ডায়ানার গাড়িকে আঘাত করে বলে বিশ্বাস করা হয়। এবং প্রিন্সেস ডায়ানার সেই নোট যাতে লেখা ‘আমার গাড়িতে একটি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে’ নিয়ে তর্ক আজও চলছে।
ডায়ানার ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি, নিজের স্মৃতিকথা স্পেয়ারে বলেছেন, তিনি নিজে টানেল দিয়ে গাড়ি চালিয়েছিলেন। তার মতে ওই টানেলে এমন কিছু ছিল না যার কারণে কেউ এর মধ্যে মারা যেতে পারে।
ডায়ানার দুই ছেলে প্রিন্স হ্যারি ও প্রিন্স উইলিয়াম পরে একমত হয়েছেন যে, এই তদন্ত প্রতিবেদন উত্তর দেয়ার চেয়ে আরও বেশি প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
ইতোমধ্যে খবর এসেছে, প্রিন্স হ্যারির সম্ভাব্য নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারিতে তার মায়ের জীবন ও মৃত্যু নিয়ে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্পটলাইটে থাকা একটি জীবন
প্রিন্সেস ডায়ানা তার পুরো জীবন কাটিয়েছেন ক্যামেরার আলোয়।তার জীবন কাহিনী, বর্তমানে রাজা চার্লসের সঙ্গে সম্পর্ক, সকলকে মুগ্ধ করেছে।
তার মৃত্যুতে সারা বিশ্ব শোকস্তব্ধ হয়ে যায়। কেনসিংটন প্যালেসের বাইরে মানুষ ফুলের স্তূপ গড়ে তোলেন। লন্ডনের রাস্তাগুলো লাখ লাখ মানুষের ভিড়ে ছিল পুর্ণ। তার দুই তরুণ রাজপুত্র তাদের মায়ের কফিনের পেছনে হেঁটেছেন। আর তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রায় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মানুষ টেলিভিশনে দেখেছেন।
