জ্বালানি স্থাপনায় হামলায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব গভীরতর

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ২০ ২০২৬, ১৪:০৯

জ্বালানি স্থাপনায় হামলায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব গভীরতর
  • 0

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলার জেরে বৈশ্বিক তেলের দাম উর্ধমূখি। ইরান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়াতেই জ্বালানি বাজার, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সবখানেই বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলার জেরে বৈশ্বিক তেলের দাম উর্ধমূখি। ইরান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়াতেই জ্বালানি বাজার, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সবখানেই বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

শুক্রবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে, কারণ পারস্য উপসাগরজুড়ে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলায় আগুন লাগে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো।

ইরান পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। বিভিন্ন দেশ জানিয়েছে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের হামলার জবাবে তেহরানে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়েছে।

উৎসবেও যুদ্ধের ছায়া

ঈদুল ফিতর ও নওরোজের উৎসবের সময়েও পুরো অঞ্চলে বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ। চলমান যুদ্ধের কারণে পরিবারিক আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে।

অ্যামেরিকার অবস্থান

অ্যামেরিকার ট্রেযারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইসরায়েলকে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, “এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে,” যদিও সময়সীমা স্পষ্ট করেননি।

বাজার পরিস্থিতি

এক পর্যায়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার পর্যন্ত ওঠার পর কিছুটা কমলেও আবার বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাউথ কোরিয়া ও চায়নার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও বৈশ্বিক বাজারে চাপ রয়ে গেছে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস স্থাপনা পুরোপুরি মেরামত করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এতে বৈশ্বিক গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

নতুন হামলা ও হতাহত

ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনিকে হত্যা করেছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে—

  • ইরানে নিহত ১,৩৪৮ থেকে ১,৩৬৯ জন বেসামরিক
  • লেবাননে নিহত এক হাজারের বেশি
  • ইসরায়েলে নিহত অন্তত ১৪ জন
  • অ্যামেরিকার নিহত ১৩ সেনা সদস্য

অর্থনৈতিক চাপ

এদিকে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে এবং হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়ছেন। অ্যামেরিকা এই যুদ্ধ চালাতে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার বাজেট চাওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।