‘জাতিসংঘের মধ্যস্ততা’: আমুর বক্তব্য নাকচ করলেন হাছান মাহমুদ

টিবিএন ডেস্ক

জুন ৭ ২০২৩, ১৫:০৯

আমির হোসেন আমু (বাঁয়ে) ও ড. হাছান মাহমুদ। ছবি কোলাজ: টিবিএন

আমির হোসেন আমু (বাঁয়ে) ও ড. হাছান মাহমুদ। ছবি কোলাজ: টিবিএন

  • 0

বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে সংলাপ নিয়ে আমির হোসেন আমুর বক্তব্য তার ব্যক্তিগত। এটি সরকার বা আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলের বক্তব্য নয়।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে বুধবার দুপুরে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন। 

এর একদিন আগেই আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনে জাতিসংঘ প্রতিনিধির মধ্যস্থতায় বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসতে পারে।

 

আরও পড়ুন: জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বিএনপির সঙ্গে ‘আলোচনায় আগ্রহী’ আ. লীগ

 

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বুধবার হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমির হোসেন আমু আমাদের দলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। তার এ বক্তব্য নিয়ে আমাদের দলের মধ্যে, সরকারের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি ১৪ দলের মধ্যেও কোনো আলোচনা হয়নি। এটি সম্পূর্ণভাবে তার ব্যক্তিগত বক্তব্য।’ 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তার (আমু) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তিনি বলেছেন আসলে গণমাধ্যমে যেভাবে এসেছে তিনি ঠিক সেভাবে বলেননি। যেভাবেই আসুক এটি তার ব্যক্তিগত অভিমত। দল, সরকার কিংবা ১৪ দলের কোথাও এ নিয়ে আলোচনা হয়নি।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যেভাবে ভারতে নির্বাচনকালীন সময়ে চলতি সরকার দায়িত্ব পালন করে, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, বৃটেনে পালন করে, অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্টও পদত্যাগ করেন না, তিনিও নির্বাচনকালীন সময়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। যেভাবে সমস্ত গণতান্ত্রিক দেশে চলতি সরকার নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করে ঠিক সেভাবে আমাদের দেশেও বর্তমান সরকার নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেই সরকারের আকার কী হবে না হবে সেটি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।’

বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের আয়োজন এবং ব্যবস্থাপনাতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে চায়, তাদের অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনকে আমাদের সরকার সর্বোতভাবে সহায়তা করবে, যাতে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক, উৎসবমুখর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 

‘আমরা চাই সে নির্বাচনে বিএনপিসহ সমস্ত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক এবং সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত চমৎকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, বিশ্বের কাছে উদাহরণ হিসেবে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, সেটিই আমরা চাই। নির্বাচন নিয়ে যদি কোনো প্রসঙ্গ থাকে বিএনপিকে সেটি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, কারণ নির্বাচন আয়োজন এবং অনুষ্ঠান করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের ডাকে আমরাও যাব।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পায়। তারা ২০১৪ সালের নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে, ৫০০ ভোটকেন্দ্র জ্বালিয়ে দিয়েছে, দুইজন প্রিজাইডিং অফিসারকে হত্যা করেছে এবং সাড়ে ৩ হাজার মানুষ পুড়িয়েছে, তার মধ্যে ৫০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। 

‘তারা আসলে নির্বাচন প্রতিহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং সেই কথাটিই মির্জা ফখরুল সাহেব আবার বলেছেন। কিন্তু এবার আর তাদের পক্ষে নির্বাচন প্রতিহত করা কিংবা নির্বাচন বর্জন করা সম্ভবপর হবে না। বিভিন্ন সময় তারা এ রকম অনুযোগ বিদেশিদের কাছে করে এসেছে কিন্তু এবার সেটিও করা সম্ভবপর হবে না। দেশে একটি অবশ্যই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘অবশ্যই বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেই পারে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য তা নয়, তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচন ভণ্ডুল করে দেশে একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করা। কিন্তু নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ হচ্ছে মুখ্য বিষয়। জনগণ যদি ব্যাপকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং ভোট অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হয় তাহলে সেটি জনগণের অংশগ্রহণমূলক একটি ভালো নির্বাচন।’

এর আগে একই ধরনের মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মধ্যস্ততা করতে হবে এমন কোনো রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়নি। 

ঐতিহাসিক ৭ জুন উপলক্ষে বুধবার সকালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। 

তিনি বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত এখনও নেইনি। আমাদের দেশে এমন কোনো রাজনৈতিক সংকট হয়নি যে জাতিসংঘের এখানে ইন্টারফেয়ার করতে হবে। জাতিসংঘ মধ্যস্থতা করবে এই রকম কোনো সংকট স্বাধীন বাংলাদেশে হয়নি।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা আলোচনা করব, এটা নিজেদের সমস্যা, নিজেরাই সমাধান করব।’

বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন অনেক পরিপূর্ণ হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে চলছে। কাজেই এখানে বাইরের কোনো মধ্যস্থতা, বাইরের কোনো হস্তক্ষেপের দরকার নেই। আমাদের নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করব। সময় বলে দেবে কখন কী হবে। আপাতত আলাপ-আলোচনার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নির্বাচন কমিশন আরও গণতান্ত্রিক হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা আরও গণতান্ত্রিক হয়েছে। গণতন্ত্র হঠাৎ করে রাতারাতি প্রতিষ্ঠা পায় না। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সময় লাগে। একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতারা আমাদের নেত্রীকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তাদের সঙ্গে আমরা কী আলোচনা করব? তারা আজ নালিশের রাজনীতি করছে। কী পেয়েছে? তারা অ্যামেরিকায় নালিশ করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে নালিশ করে তারা কী পেয়েছে? পেয়েছে ঘোড়ার ডিম। এখন তারা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধান চায়। এই তত্ত্বাবধানে আবার নতুন সূত্র তুলে ধরছে।’

তিনি বলেন, ‘সংকটে সমাধান হলো আমাদের সংবিধান। সংকটে আর কোনো সমাধান নেই। সংবিধানই যদি কোনো দেশের সমাধান না দিতে পারে তাহলে সে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে কী করে?’


0 মন্তব্য

মন্তব্য করুন