ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন, দাবি ইযরায়েলের

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮ ২০২৬, ২১:৩৮

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন, দাবি ইযরায়েলের
  • 0

ইযরায়েল ও অ্যামেরিকার যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। শনিবার ইযরায়েলি কর্মকর্তারা এ দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেনি ইরান বা অ্যামেরিকা। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ইযরায়েল ও অ্যামেরিকার যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। শনিবার ইযরায়েলি কর্মকর্তারা এ দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেনি ইরান বা অ্যামেরিকা। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ইযরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও ভাষণে জানান, তেহরানের কেন্দ্রে খামেনির কমপ্লেক্সে শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে এবং “ক্রমবর্ধমান ইঙ্গিত” পাওয়া যাচ্ছে যে তিনি আর জীবিত নন। পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইযরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, তারা খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত বলে মনে করছেন, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তখনো হয়নি।

খামেনি ছিলেন ইরানের ইসলামিক রিপাবলিকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা এবং রাষ্ট্রের প্রধান নীতিনির্ধারণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রেভল্যুশনারি গার্ড—এই তিন শক্তির ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রাখতেন। তাঁর নির্দিষ্ট উত্তরসূরি না থাকায় সম্ভাব্য মৃত্যুর খবর দেশটির ক্ষমতার কাঠামো ও ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

শনিবার শুরু হওয়া অভিযানে ইরানের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা হয়; প্রথম দিকের হামলাগুলোর একটি খামেনির দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় লাগে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্র জানায়, দেশজুড়ে হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত ও ৭০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলে একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে।

অ্যামেরিকার সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরানের শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরও তাদের কোনো হতাহত হয়নি এবং ঘাঁটিগুলোর ক্ষতি সীমিত। ইযরায়েল জানিয়েছে, ইরান ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেও অনেকগুলো প্রতিহত করা হয়েছে।

ইরান পাল্টা হামলায় ইযরায়েল, বাহরাইন, কুয়েত, কাতারসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যামেরিকান সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের রাজধানী ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে আক্রমণ প্রতিহত করা হয়েছে। জর্ডান জানিয়েছে তারা ৪৯টি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগতে পারে—বিশেষত হরমুজ প্রণালী ঝুঁকির মুখে পড়লে।

নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে বলেন, হামলা অব্যাহত থাকবে এবং ইরানের জনগণকে শাসনব্যবস্থা উৎখাতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও ভিডিও বার্তায় ইরানিদের “নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার” আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, অভিযান শেষে জনগণের জন্য সরকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অবশ্য হামলাকে “উসকানিহীন, বেআইনি ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন এবং আগে বলেছিলেন—তাঁর জানা মতে খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেযেশকিয়ান জীবিত আছেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকেছে, আর আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে তারা পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে এবং এখন পর্যন্ত তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রমাণ পায়নি। একই সময়ে পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছিল—অ্যামেরিকান যুদ্ধজাহাজ অঞ্চলে মোতায়েন, ব্যর্থ পারমাণবিক আলোচনা এবং দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সংঘাত পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলে। ইযরায়েলি সামরিক প্রধান জানান, এই অভিযান কয়েক মাস ধরে পরিকল্পিত ছিল এবং এতে ইরানের সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, বিমানঘাঁটি ও নেতৃত্বের লক্ষ্যবস্তু অন্তর্ভুক্ত ছিল।

খামেনির মৃত্যুর দাবিটি সত্য হলে তা ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না দেওয়ায় পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত এবং অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।