জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম নেটফ্লিক্স, প্রতিষ্ঠানটি একসঙ্গে তাদের ৬ শতাংশ তথা প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নথি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইউটিউব, টিকটকের মতো বিনোদন মাধ্যমগুলোর সঙ্গে দর্শক টানতে বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে নেটফ্লিক্স। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের সর্বোপরি ভারসাম্য বজায় রাখতে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সহ-নির্বাহী গ্রেগ পিটারস ও টেড স্যারেন্ডোরসের পাঠানো বুধবারের একটি মেইল থেকে জানা যায়, বরখাস্তের তালিকায় থাকা কর্মীদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রতিষ্ঠানটির টেকনোলজি। লিগ্যাল। প্রোডাক্ট, টেকনোলজি, লিগ্যাল এবং মানবসম্পদ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
ওই মেইলে বলা হয়, ‘আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকে বিনোদন দেওয়া- যা কিনা উচ্চাভিলাষী-এটি অর্জন করতে চাইলে আমাদের জনবল ও সম্পদের অগ্রাধিকারের বিষয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে।'
ইউটিউব, টিকটকের মতো জনপ্রিয় প্লাটফর্মগুলো কোনোরকম মূল্য নির্ধারণ ছাড়াই দর্শকদের ভিডিও দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় সাবস্ক্রিপশনের ভিত্তিতে দর্শক পাওয়া নেটফ্লিক্স প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।
সেইসঙ্গে দর্শকরা কতটুকু সময় নেটফ্লিক্সে ব্যয় করছেন- এ বিষয়টিও বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে। অন্যদিকে, চলতি বছর শেয়ার বাজারে নেটফ্লিক্সের ২৫ শতাংশ দরপতনের পর বুধবার দর বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৭ শতাংশ, পুরনো হিসেবের তুলনায় যা এখনও নিম্নমুখী।
এ প্রসঙ্গে ই-মার্কেটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রোস বেনেস বলেছেন, নেটফ্লিক্সের একমাত্র বড় আয়ের উৎস সাবস্ক্রিপশন ফি। নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে গেলে প্রতিষ্ঠানটির ভিন্ন ভিন্ন আয়ের উৎস খোঁজা দরকার।
সম্প্রতি বিজ্ঞাপন এবং লাইভ প্রোগ্রাম, গেমিং-এ বিনিয়োগ বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে নেটফ্লিক্স।