ফ্রান্সে সামাজিক মাধ্যমে ধর্মীয় ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাবে দেশটিতে তরুণদের ক্যাথলিক ধর্ম চর্চা নজিরবিহীনভাবে বাড়ছে। রাষ্ট্রীয় সফরে পোপ লিও চতুর্দশ ফ্রান্সে অবস্থান করার মধ্যে বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
চার দিনের সফরে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে পৌঁছান পোপ লিও চতুর্দশ। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এটিই কোনো পোপের প্রথম প্যারিস সফর।
একই দিনে প্যারিসের স্টেডিয়ামে দেশটির ১৭ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের সঙ্গে প্রার্থনা জাগরণ আয়োজনে অংশ নেন লিও চতুর্দশ।
সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪ জানায়, আয়োজনে অংশ নিতে নিবন্ধন শুরুর ১ ঘণ্টার ভিতর লক্ষাধিক আসন পূরণ করেছিলেন অংশগ্রহণকারীরা।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, বিগত কয়েক দশকে ফ্রান্সে পুরোহিতদের সংখ্যা প্রায় ৮১ শতাংশ কমেছে। তবে মাত্র কয়েক বছরে তরুণদের মধ্যে বাপ্তিস্ম তথা ক্যাথলিক চার্চের সদস্য সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি।
২০২২ সালে বাপ্তিস্ম নেওয়া কিশোর-তরুণদের সংখ্যা ছিল ৬০০০ হাজার , যেখানে ২০২৬ সালে এ সংখ্যা ২১০০০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
প্রভাব ফেলেছেন ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সাররা
প্রায় এক দশক ধরে ফ্রান্সে তরুণদের জন্য ক্যাথলিক ধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটাতে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার হয়ে আসছে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে যারা ক্যাথলিক ধর্মের প্রচারে ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে কাজ করে আসছেন তাদের মধ্যে ব্রাদার পল আদ্রিয়েন, সিস্টার আলবের্তিন ও মাতিয়ু জাসেরোঁ অন্যতম।
সামাজিক মাধ্যমে আধুনিক আবহে ধর্মীয় ব্লগ, সন্ন্যাসীদের জীবনযাপন, ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। তাদের চ্যানেলের বেশিরভাগ ফলোয়ারই সাধারণত কিশোর ও তরুণ। কোভিড বিপর্যয়ে বিশ্বব্যাপী লকডাউন শুরু হলে সামাজিক মাধ্যমে ক্যাথলিক ধর্মের এ চর্চা বেশি জনপ্রিয়তা পায়, যার ধারা অব্যাহত আছে।