Skip to main content

চলতি সপ্তাহে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে অ্যামেরিকা–ইরানের

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪ ২০২৬, ১৩:০৫ হালনাগাদ: এপ্রিল ১৪ ২০২৬, ১৬:১৭

চলতি সপ্তাহে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে অ্যামেরিকা–ইরানের
  • 0

যদিও অ্যামেরিকার এই অবরোধে তেহরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে, তবে কূটনৈতিক সংলাপ আবার শুরু হতে পারে—এমন ইঙ্গিত বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। ফলে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।

অ্যামেরিকা ও ইরানের আলোচক দল চলতি সপ্তাহেই আবার ইসলামাবাদে ফিরে যুদ্ধ অবসানে সংলাপ পুনরায় শুরু করতে পারে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। সপ্তাহান্তের আলোচনা ভেঙে পড়ার পর ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে।

যদিও অ্যামেরিকার এই অবরোধে তেহরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে, তবে কূটনৈতিক সংলাপ আবার শুরু হতে পারে—এমন ইঙ্গিত বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। ফলে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।

অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আবারও আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে কোনো চুক্তি তখনই সম্ভব হবে যদি তারা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি পরিত্যাগ করে।

অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে। সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।

অ্যামেরিকার এই অবরোধ অনুযায়ী, ইরানি বন্দরগামী জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়া হবে, তবে অন্য দেশের বন্দরের জন্য যাওয়া জাহাজগুলোকে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তবে এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক সমর্থন খুবই সীমিত। ন্যাটো মিত্র বৃটেইন ও ফ্রান্স স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এই অবরোধে অংশ নেবে না বরং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

ইরান এই অবরোধকে “দস্যুতা” হিসেবে আখ্যা দিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো হুমকির মুখে পড়লে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।

এই উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে যায়নি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এখনো দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

অ্যামেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, অ্যামেরিকার এই অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা খোলা থাকায় বাজার কিছুটা আশাবাদী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।