হুথি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর সাম্প্রতিক তীব্র সংঘাতের মুখে সাধারণ ইয়েমেনিদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল আলিমি।
বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের আলোকে, আজকের এই গৌরবোজ্জ্বল দিনে, আমি আমাদের মহান জনগণের সন্তানদের প্রতি সাধারণ সংহতি ও জাতীয়ভাবে অস্ত্র ধারণের ডাক দিচ্ছি। আপনারা আপনাদের সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে ঐক্যবদ্ধ হন এবং অফিসিয়াল মাধ্যমে তাদের সারিতে যোগ দিন। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আপনাদের প্রজাতন্ত্র ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে যার যার সাধ্যমতো সবটুকু দিয়ে অবদান রাখুন।’
সৌদি আরবের রিয়াদে ধারণকৃত এই বার্তায় তিনি, দলত্যাগী হুথি সদস্যদের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করছি যে, প্রজাতন্ত্রের মূলধারা ও সাংবিধানিক বৈধতায় নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পথ সবার জন্য উন্মুক্ত। আমি স্পষ্ট করে বলছি যে, ২৬ সেপ্টেম্বরের এই প্রাক্কালে আজ থেকে যারা সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়াদের সঙ্গ ত্যাগ করবেন, তাদের হয়ে লড়াই বন্ধ করবেন বা তাদের পক্ষে কাজ করা থেকে বিরত থাকবেন, সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তীতে জারি হতে যাওয়া একটি সাধারণ ক্ষমার আওতায় তাদের আনা হবে।’
একই সঙ্গে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পদ ও মর্যাদা পুনর্বহাল করার অঙ্গীকার করেন ইয়েমেনি প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান (পিএলসি) রাশাদ আল আলিমি। সাম্প্রতিক সংঘাতে য়েমেনে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটি থেকে গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।
সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর সম্পদের অভাব সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকিতে তারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ‘নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল’ জানায়, বাস্তুচ্যুত মানুষের বেশিরভাগই রাতের আঁধারে পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই সঙ্গে নিতে পারেননি।
সংস্থাটির কর্মী অ্যালিসন বটমলি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, অনেক মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে পরিবার পরিজন নিয়ে রাতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন। হঠাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষের এই স্থানান্তরের ফলে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে আশ্রয়, খাদ্য ও সুপেয় পানির প্রচণ্ড সংকট দেখা দিয়েছে।