চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বহুমাত্রিক ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা ও ‘নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ গড়ে তুলতে এক যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বেইজিংয়ে পুতিনের রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে, আজ বুধবার জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠক চলাকালে এ যুগান্তকারী এ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন দুই নেতা।
বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিগগিরই দুই দেশ এমন একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে, যেখানে বহুমাত্রিক বিশ্বব্যবস্থা এবং নতুন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরা হবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্রটি মূলত ৪৭ পৃষ্ঠার একটি নীতিগত দলিল।
বহুমাত্রিক বিশ্ব কী?
“বহুমাত্রিক বিশ্ব” বলতে এমন এক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতা কেবল এক বা দুই দেশের হাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং একাধিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বণ্টিত থাকবে। যার ফলে একক কোনো শক্তি কোনো দেশকে শাসন কিংবা আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না।
বেইজিংয়ে বৈঠকটি চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ক্যাটরিনা ইউ জানান, জিনপিং এমন একটি বিশ্বব্যবস্থার কথা বলছেন, যেখানে মূলত অ্যামেরিকার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বে অ্যামেরিকার “এককেন্দ্রিক আধিপত্য”-এর সমালোচনা করে আসছিলেন পুতিন ও জিনপিং।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পুতিন অভিযোগ করেছিলেন, নিজেদের বৈশ্বিক প্রভাব ধরে রাখতে অ্যামেরিকা বিভিন্ন সংঘাত উসকে দিচ্ছে।
ওই সময় এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে সংঘাত প্রয়োজন। একমেরু বিশ্বব্যবস্থার যুগ শেষের পথে।‘
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বৈঠকে শি জিনপিং পুতিনকে বলেন, ‘একতরফা আধিপত্যের ঢেউ ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে।‘