৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে হরমুজ অতিক্রম করলো ৩টি সুপারট্যাংকার
- 0


প্রকাশিত: মে ২০ ২০২৬, ১৪:৪১
দুই মাসের বেশি সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে অপেক্ষা করার পর বুধবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে তিনটি সুপারট্যাংকার। জাহাজগুলোতে এশিয়ার বাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। একই সময়ে আরও একটি সুপারট্যাংকার প্রণালীতে প্রবেশ করছে বলে এলএসইজি ও কেপলারের শিপিং ডাটায় দেখা গেছে।
ইরানের নির্ধারিত বিশেষ ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে উপসাগরীয় অঞ্চল ত্যাগ করা অল্প কয়েকটি সুপারট্যাংকারের মধ্যেই রয়েছে এই জাহাজগুলো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অ্যামেরিকা-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়।
এলএসইজি ও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার—ভিএলসিসি ইউনিভার্সাল উইনার—কুয়েতি অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল বহন করে প্রণালি ত্যাগ করছিল। জাহাজটি ৪ মার্চ তেল বোঝাই করেছিল এবং বুধবার দুইটি চীনা ট্যাংকার প্রণালী ছাড়ার পর সেটিও যাত্রা শুরু করে।
কেপলারের তথ্য বলছে, ট্যাংকারটি সাউথ কোরিয়ার উলসানের দিকে যাচ্ছে। সেখানে দেশটির সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার এসকে এনার্জি অবস্থিত। আগামী ৯ জুন সেখানে জাহাজটির তেল খালাস করার কথা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এসকে এনার্জি। অন্যদিকে, ভিএলসিসিটির মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এইচএমএম-এর মুখপাত্রের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অ্যামেরিকা ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে যায়। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন যেখানে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করতো, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংখ্যা নেমে আসে গড়ে মাত্র ১০টিতে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান নির্ধারিত বিশেষ রুট ব্যবহার করে সীমিত সংখ্যক জাহাজকে প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে অঞ্চলটিতে এখনো ড্রোন হামলা, মাইন বিস্ফোরণ এবং সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলো জাহাজ মালিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনাও জারি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ট্যাংকার চলাচল মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে আংশিক স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও, এটিকে এখনই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেরার লক্ষণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ শত শত জাহাজ এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।
