ইয়েমেনের হুথিদের হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সিরিয়া। তবে রিয়াদের সঙ্গে দেশটির সামরিক সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে জানিয়ছে দামাস্কাস।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সানাকে দেওয়া এক কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্যে এ তথ্য জানানো হয়।
সূত্রটি জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে সিরিয়ার বর্তমান সামরিক সহযোগিতার মূল লক্ষ্য প্রশিক্ষণ, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়। তবে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে এ সহযোগিতার পরিধি আরো বাড়তে পারে।
এর আগে ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সিরিয়ার কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা দেশটিতে গেছেন। প্রতিবেদনে দুই সিরীয় সামরিক কর্মকর্তা ও আমেরিকার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দেওয়া হয়।
তবে সিরিয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী মাসে সৌদি কর্মকর্তাদের সিরিয়া সফরের কথা রয়েছে। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা মক্কা প্যাক্টে সিরিয়ার যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।
গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা প্যাক্ট নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বৃহস্পতিবার চুক্তিটি অনুমোদন করেছে তুরস্ক।
গত বুধবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সৌদি আরব সফরের সময় দুই দেশ একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল তার দ্বিতীয় বৈঠক।
২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে সৌদি আরব ও অ্যামেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে দামেস্ক। সর্বশেষ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে দুই দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।