ফাঁস হওয়া টেক্সট ও এআই ছবি শেয়ার করে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে অনড় ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
- 0

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০ ২০২৬, ১৫:৪২
.jpg&w=3840&q=100)
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে তার অবস্থান থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি প্রেসিডেন্ট।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এদিকে ইউরোপিয়ান নেতারা যখন এর প্রতিক্রিয়া সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর প্রতিও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স(এআই) দিয়ে তৈরি ছবির মাধ্যমে ট্রাম্পের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা, দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমা নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে থাকা জোটটিকে ভেঙে দেওয়ার হুমকি তৈরি করেছে।
এটি ইউরোপের সঙ্গে আবারও একটি বাণিজ্য যুদ্ধ উসকে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। যে যুদ্ধ গত বছর কয়েক মাস ধরে বাজার ও কোম্পানিগুলোকে অস্থির করে তুলেছিল।
তবে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যাকে তিনি ‘হাইস্টেরিয়া’ বলেছেন, সে বিষয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ট্রাম্পের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটার সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সবাইকে খুব স্পষ্টভাবে বলেছি গ্রিনল্যান্ড জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। এ বিষয়ে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই, এ নিয়ে সবাই একমত।’
এই বার্তা জোরালো করতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে নিজের একটি এআই তৈরি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তাকে হাতে অ্যামেরিকার পতাকা ধরে থাকতে দেখা যায়।
আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডকে অ্যামেরিকার অংশ হিসেবে দেখানো একটি মানচিত্রের পাশে তিনি বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কথা বলছেন।
আলাদাভাবে, ট্রাম্প ফাঁস করেন কিছু ব্যক্তিগত বার্তাও, যার মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর একটি বার্তা রয়েছে।
সেখানে ম্যাক্রোঁ প্রশ্ন তুলেছিলেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কী করছেন। ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যারা তার পথে বাধা দেবে তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করবেন।
এর আগে তিনি ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকিও দিয়েছিলেন।
‘হাইস্টেরিয়া’ নিয়ে বেসেন্টের পাল্টা বক্তব্য
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পাল্টা বাণিজ্যিক ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছে।একটি বিকল্প হলো অ্যামেরিকার ৯৩ বিলিয়ন ইউরো বা ১০৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের একটি প্যাকেজ, যা ছয় মাসের স্থগিতাদেশ শেষে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হতে পারে।
আরেকটি বিকল্প হলো অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট-এসিআই যা, কখনো ব্যবহার করা হয়নি।এর মাধ্যমে সরকারি দরপত্র, বিনিয়োগ বা ব্যাংকিং কার্যক্রমে প্রবেশ সীমিত করা যেতে পারে, কিংবা সেবাখাতে বাণিজ্য সীমাবদ্ধ করা হতে পারে।
এ খাতে অ্যামেরিকার সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। বিশেষ করে অ্যামেরিকার বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর লাভজনক ডিজিটাল সেবায়।
সুইজারল্যান্ডের ড্যাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন নেতাদের আহ্বান জানান একটি ‘নতুন স্বাধীন ইউরোপ’ গড়ে তোলার জন্য।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যে ভূকম্পনসম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, সেটি আসলে একটি সুযোগ, নতুন ধরনের ইউরোপিয়ান স্বাধীনতা গড়ে তোলার।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই পরিবর্তন স্থায়ী, এটি স্বীকার করলেই আমরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারব।’
ডেভোসে একই সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘এমন একটি সমাধান পাওয়া যাবে যা অ্যামেরিকা ও ইউরোপ উভয়ের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, নেতারা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করবেন না এবং শেষ পর্যন্ত এমন একটি সমাধান আসবে, যা সবার জন্য ভালো হবে।’
অ্যামেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা কেন সেখানেই চলে যাচ্ছি? কেন সবকিছুকে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ধরে নিচ্ছি?’
তিনি যোগ করেন, ‘হাইস্টেরিয়া কমান। গভীর শ্বাস নিন।’
