ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন প্রায় ১০০জন।
দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে শুরু হওয়া হামলাটি বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
বিবিসি জানায়, হামলায় ইউক্রেনের দক্ষিণে বন্দরনগরী ওডেসায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান সের্হিয়ি লাইসাক জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।
রাজধানী কিয়েভেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, শহরের পোদিলস্কি জেলায় একটি ১৬ তলা আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। সেখান থেকে উদ্ধারকারীরা এক মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন।
কিয়েভে নিহতদের মধ্যে একটি ১২ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। এছাড়া শহরের উত্তরে চারজন জরুরি চিকিৎসাকর্মীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মধ্যাঞ্চলের দিনিপ্রো শহরে হামলায় তিনজন নিহত ও ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। খারকিভে পৃথক ড্রোন হামলায় দুইজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
দক্ষিণের মাইকোলাইভ ও খেরসন শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত এক দিনে ৬৩৬টি রুশ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।‘
তার দাবি, ওই রাতে রাশিয়া প্রায় ৭০০টি ড্রোন, ১৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এদিকে রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দুই শিশু নিহত হয়েছে বলে সেখানকার গভর্নর জানিয়েছেন।
অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে সম্প্রতি একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি হলেও উভয় পক্ষই তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এর পরপরই নতুন করে এই হামলা শুরু হয়।
রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধ এখন পাঁচ বছরে গড়িয়েছে। অ্যামেরিকার মধ্যস্থতায় কয়েক দফা শান্তি আলোচনা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।