প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো অ্যামেরিকান প্রেসিডেন্টের চায়না সফর ঘিরে বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার কিছু সময় আগে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন পৌঁছেছেন, যেখানে তার মূল লক্ষ্য—বাণিজ্যিক অচলাবস্থা কাটানো, চীনা বাজার আরও উন্মুক্ত করা এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থানকে প্রভাবিত করা।
দেশটিতে পৌঁছানোর পর চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় ঝেং এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধির একটি দল।
এছাড়াও ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিল সাদা-নীল পোশাক পরিহিত ৩০০ চীনা তরুণ-তরুণী। তারা চীন এবং অ্যামেরিকার পতাকা উড়িয়ে প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানান।
পাশাপাশি ওই সময় দেশটির সামরিক বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষিত একটি দল ও সামরিক ব্যান্ড ট্রাম্পকে সম্মান প্রদর্শন করে।
আগামীকাল(বৃহস্পতিবার) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন। এরপর দুই নেতা টানা দুদিন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন।
প্রায় এক দশক পর চীন সফরকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ সফর’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প।
এ সফরে তার সঙ্গে আছেন স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও, ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ, ট্রেড রিপ্রেজেনটিভ জ্যামিসন গ্রিয়ার। একইসঙ্গে টেক দুনিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন অ্যাপলের নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক, টেসলা ও স্পেস এক্সের নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক, বিমান ও মহাকাশযান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর নির্বাহী ডিনা পাওয়েল ম্যাককরমিকসহ ডযনখানেক কর্মকর্তা।
তিনদিনের এ কূটনৈতিক সফরে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে দুই দেশের আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স-এআই নিয়ে প্রযুক্তিবিষয়ক চুক্তি। এআই শিল্পে গুরুত্ব দেওয়া চীন চাইবে প্রযুক্তি তৈরিতে ব্যবহৃহ অ্যামেরিকান মাইক্রোপ্রসেসর চিপ সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা ও জটিলতা তুলে দেওয়া। চুক্তিটি বিনিময় হতে পারে দেশটির মধ্যে থাকা বিরল খনির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে।
একইসঙ্গে ইরানের শীর্ষ তেল আমদানিকারক ও মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত চীন। হরমুজ প্রণালি সংকট ও ইরানকে শান্তি চুক্তির সমঝোতায় আসতে দেশটির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করতে চান ট্রাম্প। এছাড়াও, দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে সমঝোতা, শুল্কচাপ, তাইওয়ান প্রসঙ্গও থাকবে আলোচনায়।