


প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮ ২০২৫, ১২:০৬ হালনাগাদ: এপ্রিল ৩০ ২০২৬, ২২:৩৩

শনিবার শহরে শেষবারের মতো সূর্যাস্ত দেখা যাবে সন্ধ্যা ৬টার পর। ছবি: এনবিসি নিউজ
নিউ ইয়র্কবাসীদের জন্য আসছে দীর্ঘ অন্ধকারের মৌসুম। চলতি বছর ২৫ অক্টোবর, শনিবার শহরে শেষবারের মতো সূর্যাস্ত দেখা যাবে সন্ধ্যা ৬টার পর। এরপর থেকে প্রতিদিন সূর্য ৬টার আগেই দিগন্তের নিচে মিলিয়ে যাবে।
২ নভেম্বর, রবিবার ডেলাইট সেভিং টাইম (ডিএসটি) শেষ হওয়ার পর সূর্যাস্ত হবে আরও আগে—প্রায় বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে। অর্থাৎ, সন্ধ্যা নামবে পুরো এক ঘণ্টা আগে।
এই পরিবর্তন শুধু দিনের আলোর সময় কমিয়ে দেবে না, বরং শহরের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলবে। অফিস শেষে অনেকেই আর সূর্যের আলো দেখতে পাবেন না, যাতায়াতের ধরণ বদলাবে, বাইরের কর্মকাণ্ড কমে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের আলো কমে যাওয়ায় অনেকের মেজাজেও প্রভাব পড়তে পারে।
শীতের সূর্যাস্তের পর থেকেই ধীরে ধীরে দিনের আলো বাড়তে শুরু করলেও, নিউ ইয়র্কবাসীদের এখনো অপেক্ষা করতে হবে অনেকটা সময়। আগামী বছরের ৯ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত শহরে সন্ধ্যা ৬টার পর সূর্যাস্ত দেখা যাবে না।
এই সময় পর্যন্ত সন্ধ্যা ছোটই থাকবে, ফলে সূর্যের আলো উপভোগ করা হবে কঠিন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—যখনই সুযোগ পাওয়া যায়, প্রাকৃতিক আলোয় সময় কাটানো, বিকেলের রোদে হাঁটা ও নিয়মিত রুটিন বজায় রাখা, যা আগেভাগে নামা রাতের প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে।
অক্টোবরের শেষের দিক থেকে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দারা প্রতিদিন অল্প অল্প করে দিনের আলো হারাতে থাকবেন। বছরের সবচেয়ে ছোট দিনটি হবে ২১ ডিসেম্বর। ওই দিন শহরে থাকবে মাত্র ৯ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের দিনের আলো, আর সূর্য অস্ত যাবে বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে।
আগেভাগে নামা রাত ও ঠান্ডা আবহাওয়া মিলিয়ে তৈরি হবে ছোট, অন্ধকার দিনের এক পরিচিত পরিবেশ, যা অনেকের কাছে মন খারাপের অনুভূতি এনে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন অনেকের মেজাজ ও কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘মৌসুমী আবেগজনিত ব্যাধি’ (সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার বা এসএডি) নামে পরিচিত।
এক শতাব্দী আগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ হিসেবে অ্যামেরিকায় এই সময় পরিবর্তন ব্যবস্থা চালু হয়, যা পরে ১৯৬৬ সালে ‘ইউনিফর্ম টাইম অ্যাক্ট’ এর মাধ্যমে দেশজুড়ে মানক করা হয়।
এর মূল উদ্দেশ্য ছিল—সন্ধ্যার সময় সূর্যের আলোকে ভালোভাবে কাজে লাগানো, যাতে মানুষ কাজের পরেও কেনাকাটা, বিনোদন বা অন্যান্য কার্যকলাপে অংশ নিতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিএসটি শক্তি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে তৈরি করা হলেও এর কার্যকারিতা এখন খুবই সীমিত। বরং ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের ফলে অনেকের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, এবং দৈনন্দিন রুটিনেও প্রভাব পড়ে।
