হঠাৎ অশান্ত কেন হিমালয়কন্যা?

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮ ২০২৫, ১৯:১৭ হালনাগাদ: নভেম্বর ১৫ ২০২৫, ২০:৩৯

নেপালের রাজধানীতে কাঠমান্ডুতে সোমবার বিক্ষোভের সময় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় গাড়িতে। ছবি: রয়টার্স

নেপালের রাজধানীতে কাঠমান্ডুতে সোমবার বিক্ষোভের সময় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় গাড়িতে। ছবি: রয়টার্স

  • 0

ইকশামার ভাষ্য, তারা পরিবর্তন দেখতে চান। অতীতে অনেকে অনাচার সহ্য করেছেন, তবে এ প্রজন্ম তার শেষ দেখতে চায়।

জেনারেশন জেড তথা জেন-জির বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে উঠেছে প্রশান্ত হিমালয়ের কন্যা হিসেবে পরিচিত নেপাল।

সংক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীরা কারফিউ উপেক্ষা করে পার্লামেন্টের কাছে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের পর কাঠমান্ডুতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের এনডিটিভি সোমবার জানায়, নেপালের রাজধানীতে সহিংস সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন।

সংবাদমাধ্যমটির খবরে উল্লেখ করা হয়, বিক্ষোভকারীরা গাছের ডাল, পানির বোতল ছোড়ার পাশাপাশি সরকারবিরোধী স্লোগান দিলে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ।

অন্যদিকে নেপালভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, কিছু বিক্ষোভকারী পার্লামেন্ট চত্বরে প্রবেশে সক্ষম হন। এটি পরিস্থিতিকে গুরুতর করে তোলে।

বিক্ষোভ শুধু কাঠমান্ডুতেই সীমাবদ্ধ নেই। পোখারায় স্থানীয় লোকজন মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেখানে কারফিউ জারি করেছে।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি।

হিমালয়কন্যা অশান্ত যে কারণে

এনডিটিভি জানায়, নেপাল সরকার ২৬টি অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্ম ব্লক করার পর শুক্রবার থেকে ফেসবুক, এক্স ও ইউটিউবসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিং শেয়ারিং সাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছিল না। এটি ব্যবহারকারীদের ক্ষুব্ধ ও বিভ্রান্ত করে।

ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো নেপালে ব্যাপক জনপ্রিয়, যেগুলোর ব্যবহারকারী লাখ লাখ। তারা বিনোদন, সংবাদ ও ব্যবসার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নির্ভর করেন।

জনপ্রিয় অ্যাপগুলো ব্লকের সিদ্ধান্ত জনমনে, বিশেষত তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রে জেঁকে বসা দুর্নীতি সামলাতে ব্যর্থ হওয়া সরকার মুক্তমত প্রকাশের টুঁটি চেপে ধরতে চাইছে।

রাজধানী কাঠমান্ডুতে সোমবার সড়কে নামেন জেন-জির হাজারো বিক্ষোভকারী। তারা সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর থেকে সরকারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি দেশজুড়ে দুর্নীতির সংস্কৃতির অবসানের দাবি জানান।

বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে কথা বলেন ২৪ বছরের শিক্ষার্থী উজান রাজভান্ডারি।

তার ভাষ্য, তাদের বিক্ষোভে ঠেলে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা, কিন্তু জমায়েতের এটিই একমাত্র কারণ নয়।

এ শিক্ষার্থীর মতে, নেপালে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে, যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছেন তারা।

আরেক শিক্ষার্থী ২০ বছর বয়সী ইকশামা তুমরোক জানান, তারা সরকারের ‘কর্তৃত্ববাদী আচরণের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন।

ইকশামার ভাষ্য, তারা পরিবর্তন দেখতে চান। অতীতে অনেকে অনাচার সহ্য করেছেন, তবে এ প্রজন্ম তার শেষ দেখতে চায়।