গাজায় যুদ্ধ বন্ধের পর হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধাচ্ছে কারা?
গাজায় হামাসের দুই যোদ্ধা। ছবি: রয়টার্স
- 0

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪ ২০২৫, ০:০৪

যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে দীর্ঘ দুই বছর পর গাজায় বন্ধ হয়েছে ইসরায়েলের বিমান হামলা। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে বন্দি বিনিময়ও শুরু হয়েছে, কিন্তু অপেক্ষাকৃত স্বস্তির এ পরিবেশের মধ্যে অস্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে উপত্যকার নিয়ন্ত্রক দল হামাসের সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উত্তেজনা।
সংঘর্ষের শুরু
সশস্ত্র একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে রবিবার হামাসের নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে নিহত হন ২৭ জন। এর মধ্যে হামাসের আট সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গাজা সিটির সাবরা এলাকায় সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন নামী সাংবাদিক সালেহ আলজাফারাউয়ি। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ২৮ বছর বয়সী এ ব্যক্তি।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো আল জাজিরা অ্যারাবিককে জানায়, হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ‘সশস্ত্র মিলিশিয়াদের।
হামাসের সঙ্গে রবিবার সংঘর্ষে জড়ায় যে গোষ্ঠী
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা সিটিতে হামাসের সঙ্গে লড়াই হয় দগমুশ বংশের লোকজনের। গাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিসরে অস্তিত্ব আছে বৃহৎ পরিবারটির।
ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শালিতকে ২০০৮ সালে বন্দি করা গোষ্ঠী জাইশ আল-ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন মমতাজ দগমুশ।
গোষ্ঠীটির অন্য সদস্যরা হামাস কিংবা ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার হামাসের সঙ্গে লড়াই করা দগমুশরা ইসরায়েল সম্পৃক্ত। যদিও গাজার অন্য সূত্রগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্তির কথা অস্বীকার করেছে।
কী ঘটেছিল?
সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে বক্তব্য দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র ইউনিট সাহেম। ইউনিটটি জানায়, অবৈধ একটি গ্যাং শনিবার কাসাম ব্রিগেডসের কয়েকজন প্রতিরোধ যোদ্ধাকে হত্যা করে। এ কারণে সংঘর্ষ শুরু হয়।
হামাসের সশস্ত্র শাখার সঙ্গে এ সংঘাত হয় গাজা সিটির জর্ডান ফিল্ড হসপিটালের কাছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে জানান, আবাসিক একটি ব্লকে হানা দেন ৩০০ হামাস যোদ্ধা। সেখানে লুকিয়ে ছিলেন দগমুশ বন্দুকধারীরা।
ফিলিস্তিনের একটি নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানায়, গাজা সিটিতে অভিযান শুরু করে হামাস। এ অভিযানে একটি গ্যাংয়ের ৩২ সদস্য নিহত হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামাসের আট সদস্য এবং দগমুশ বংশের ১৯ জন নিহত হন। এর বাইরে নিহত হন সাংবাদিক আলজাফারাউয়ি।
এ সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন অনেকে। গাজায় নিহত আরেক সাংবাদিক আনাস আল-শরিফের সঙ্গে আলজাফারাউয়ির কুশল বিনিময়ের একটি ভিডিও দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
আল জাজিরার প্রতিনিধি আল-শরিফকে গত ১০ আগস্ট হত্যা করে ইসরায়েল। আল-শরিফের মতো আলজাফারাউয়িকেও তার রিপোর্টিংয়ের জন্য একাধিকবার হুমকি দেয় ইসরায়েল।
দগমুশদের কি আসলেই সমর্থন দেয় ইসরায়েল?
দগমুশ বংশের লোকজন আসলেই ইসরায়েলের সমর্থন পান কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে।
গাজার ভেতর থেকে করা কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোষ্ঠীটির সঙ্গে ইসরায়েলের সংযোগ আছে, তবে গোষ্ঠীটির নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অক্টোবরের শুরুতে গোষ্ঠীপ্রধান নিজার দগমুশের সাক্ষাৎকার নেয় লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস। তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, তথাকথিত মানবিক অঞ্চল সামলাতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। গাজা সিটিতে তার বসবাসের এলাকায় বোমা ছুড়ে কাঠমোগতভাবে বাড়িঘর ধ্বংস করে ইসরায়েল।
দগমুশদের সঙ্গে হামাসের দ্বন্দ্ব পুরোনো। এ দ্বন্দ্বের জেরে অতীতে দুটি পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনাও ঘটে।

