গাজার জন্য ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় কী আছে?

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০ ২০২৫, ১৭:১৪ হালনাগাদ: মার্চ ৬ ২০২৬, ২৩:৫৫

হোয়াইট হাউসে সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

হোয়াইট হাউসে সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

  • 0

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, বাস্তবায়নের জটিলতা এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি পরিকল্পনাকে নাজুক করে তুলছে।

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ বন্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানান। সোমবার বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এক প্রস্তাব। এটা উভয় পক্ষ মেনে নিলে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ শেষ হতে পারে।

২০ বা ২১ দফার প্রস্তাব: কী আছে এতে

হোয়াইট হাউস এক বিস্তৃত কাঠামো উন্মোচন করেছে, যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো।

১. উভয় পক্ষ সম্মতি দিলে তাৎক্ষণিক অস্ত্রবিরতি।

২. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মির মুক্তি।

৩. ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার।

৪. গাজা থেকে হামাসের সামরিক শক্তি ভেঙে দেওয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে তা যাচাই করা।

৫. একটি অস্থায়ী টেকনোক্র্যাটিক শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। আন্তর্জাতিক বোর্ড এটা নজরদারি করবে।

৬. গাজা পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা প্রতিষ্ঠা করা। এতে আরব দেশগুলোও অংশ নেবে।

৭. অস্ত্র ত্যাগে রাজি হলে হামাস সদস্যদের জন্য ক্ষমা বা নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া।

৮. একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী বা আইএসএফ প্রতিষ্ঠা করা, যা অস্থায়ী পর্যায়ে নিরাপত্তা বজায় রাখবে।

নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে পরিকল্পনার সমর্থন জানিয়ে একে যুদ্ধ শেষ করার ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলেছেন।

তিনি আরও ঘোষণা করেন, যদি হামাস সম্মত হয়, তবে ইসরায়েল প্রথমেই সীমিত পরিসরে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাসকে জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন,‘যদি হামাস পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে বা মেনে নিয়েও পরে এর বিরুদ্ধে কাজ করে, তাহলে ইসরায়েল নিজেরাই কাজ শেষ করবে। সহজ পথে করা যেতে পারে অথবা কঠিন পথে—কিন্তু এটা শেষ হবেই।’

ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর পাশে থেকে বলেন, হামাস যদি পরিকল্পনা মানতে অস্বীকার করে, তবে ইসরায়েল যা করবে, তার জন্য অ্যামেরিকার ‘পূর্ণ সমর্থন’ থাকবে।

প্রেসিডেন্ট বলেন, সবাই জানে যে শেষ পর্যন্ত এ অঞ্চলের বিপদ দূর করতে হবে। আর সেই বিপদের উৎস হামাস।

বৈঠকের পর কোনো প্রশ্ন নেননি দুই নেতা।

ট্রাম্প বলেন, নথি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় প্রশ্ন নেওয়া উপযুক্ত নয়।

নেতানিয়াহুও ট্রাম্পকে সমর্থন করে বলেন, আগে বিষয়টা মীমাংসা হোক। প্রশ্নের জন্য যথেষ্ট সময় থাকবে।
ট্রাম্প জানান, কাতার, মিসরসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনায় কাতার-অ্যামেরিকা-ইসরায়েলের যৌথ সমন্বয় কাঠামোও অন্তর্ভুক্ত।

আন্তর্জাতিক পর্বে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নাম। তাকে গাজার অস্থায়ী প্রশাসনের নেতৃত্বে বসানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

আরব দেশগুলোর কেউ কেউ এতে সম্মত হলেও অনেকে তার অতীত ভূমিকার কারণে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই দাবি জানাচ্ছিল যে, গাজার প্রশাসন শেষ পর্যন্ত তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এ পরিকল্পনা কিছুটা সেই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটাতে পারে।

পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে হামাসের ওপর। তারা শর্ত মেনে নেবে কি না বা আংশিকভাবে মেনে নিয়ে পরে ব্যাহত করবে কি না, সেই অনিশ্চয়তাই এখন প্রধান বাধা।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ছাড়া এ পরিকল্পনা টেকসই হবে না। আরব দেশগুলোর সমর্থন, অর্থায়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা অপরিহার্য।

ট্রাম্প দাবি করছেন, তিনি ‘খুব আত্মবিশ্বাসী’ যে চুক্তি হবে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, বাস্তবায়নের জটিলতা এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি পরিকল্পনাকে নাজুক করে তুলছে।

আগামী কয়েক দিনেই বোঝা যাবে, এটি সত্যিই এক নতুন মোড় নাকি দীর্ঘ যুদ্ধের ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায়।