যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দরকার শিশুসহ উপত্যকার সব বাসিন্দাকে দর্শনার্থী ভিসা দেওয়া স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে অ্যামেরিকার স্টেইট ডিপার্টমেন্ট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শনিবার এক পোস্টে ডিপার্টমেন্টটি এ তথ্য জানায়।
এতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসা ও মানবিক বিবেচনায় সাময়িক মেয়াদের ভিসা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পূর্ণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার আগে গাজার সব ব্যক্তিকে দর্শনার্থী ভিসা দেওয়া বন্ধ হচ্ছে।
এবিসি নিউজ রবিবার জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে নাগাদ ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের ভ্রমণ নথিপত্র থাকা তিন হাজার ৮০৪ জনকে বি১/বি২ ভিসা দেওয়া হয়েছে।
প্রায় চার হাজার জনকে কোন উদ্দেশ্যে ভিসা দেওয়া হয়েছে কিংবা ভিসাগুলোর মধ্যে বি১ ও বি২ ক্যাটাগরির কতগুলো, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি স্টেইট ডিপার্টমেন্টের তরফ থেকে।
পর্যটন বা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অ্যামেরিকায় যাওয়া লোকজন পড়েন বি২ ভিসা ক্যাটাগরিতে। অন্যদিকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা লোকজনকে দেওয়া হয় বি১ ভিসা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবিসি নিউজকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর দেয়নি স্টেইট ডিপার্টমেন্ট।
অ্যামেরিকার এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে আপাতত প্রবেশ করতে পারবেন না চিকিৎসাপ্রত্যাশী গাজার বাসিন্দারা।
হিল প্যালেস্টাইন নামের অ্যামেরিকাভিত্তিক একটি অলাভজনক সংগঠন জানায়, গাজায় হামলায় মারাত্মক আহত ১১ শিশু ও তাদের সঙ্গ দেওয়া পরিবারের ২৬ জন সদস্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে গত ৩০ জুলাই সফলভাবে গাজা থেকে জর্ডানে যায়। আগস্টে তাদের অ্যামেরিকায় প্রবেশের কথা ছিল।
হিল প্যালেস্টাইনের তথ্য অনুযায়ী, অনেক শিশু গুরুতর আহত। তাদের মধ্যে অঙ্গচ্ছেদ, মারাত্মক পুড়ে যাওয়া কিংবা মানসিক যাতনা সংক্রান্ত জটিলতা আছে। গাজার ধসে পড়া স্বাস্থ্যসেবায় এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা সম্ভব নয়।
গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৬২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়। হামলায় আহত হয় এক লাখ ৫৫ হাজার ২৭৫ জন।
ইসরায়েলি আগ্রাসনে আহত গাজাবাসীর উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু। দেশটির অবরোধ ও হামলায় উপত্যকার হাসপাতালগুলোতে তাদের যথাযথ চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না।