গাজার শিশুদের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে লেখা কবিতা রাজনৈতিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাজ্যের সায়ত্ত্বশাসিত দেশ ওয়েলসের পার্লামেন্ট সেনেড। এ ঘটনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেননি দেশটির জাতীয় কবি হানান ইসা।
সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানায়, বৃহস্পতিবার সেনেডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করার কথা ছিল ইসার। ওই অনুষ্ঠানে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু অনুষ্ঠান শুরু আগেই গাজার শিশুদের কথা উল্লেখ থাকা কবিতাটি কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করে।
‘টু গ্রো’ শিরোনামের কবিতাটিতে গাজার শিশুদের পাশাপাশি ট্রান্সজেন্ডার নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা কমিয়ে দেওয়া এবং ফ্যাসিবাদের প্রসঙ্গও ছিল।
ইসা তার এক ইন্সটাগ্রাম পোস্টে জানান, কবিতাটি প্রথম দফায় প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তিনি আরও বিমূর্ত ভাষায় সেটি নতুন করে লিখেছিলেন। কবিতার লাইনে গাজার শিশুর বদলে ‘তরমুজের শিশুরা’-এমন রূপক শব্দ ব্যবহার করলেও দ্বিতীয় সংস্করণটিও গ্রহণ করেনি পার্লামেন্ট কর্তৃপক্ষ।
ইসা আরও জানান, পার্লামেন্ট তাকে নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের এবং নির্বাচিত হওয়া উপলক্ষে উদযাপন সংক্রান্ত কবিতা লিখতে বলেছিল।
কিন্তু মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলা বিভিন্ন জরুরি বিষয় উপেক্ষা করে শুধু নদী কিংবা পাখি নিয়ে কবিতা লেখা তার কাছে দায়িত্বের প্রতি অবিচারের মতো মনে হয় তার কাছে। পার্লামেন্টে নিয়মিত রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরা কবিতা গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সেনেড কমিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যালোচনার পর তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কবিতাটি এই আয়োজনের জন্য উপযুক্ত নয়। অন্যদিকে, সাহিত্যবিষয়ক সংস্থা লিটারেচার ওয়েলস বলেছে, ওয়েলসের গণতন্ত্র উদ্যাপনের এই অনুষ্ঠানে সাহিত্যিক অবদান না থাকা হতাশাজনক।