


প্রকাশিত: নভেম্বর ৮ ২০২৬, ১৬:০৭ হালনাগাদ: নভেম্বর ৮ ২০২৬, ১৬:২৫

পোল্যান্ডের ক্রাকোভ শহরে বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থল অবরোধ করে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স
পোল্যান্ডের ক্রাকোভ শহরের একটি জনাকীর্ণ চত্বরে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ৬জন নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে এ হামলার পর দেশটিতে ৮ ও ৯ নভেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
পুলিশ ও কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী অতি ডানপন্থী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি ক্রাকোভের প্রধান মার্কেট স্কয়ারে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে গুলি চালান। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন নারী ও দুজন পুরুষ।
হামলাকারীকে থামাতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তাদের অবস্থা গুরুতর। পুলিশের গুলিতে আহত সন্দেহভাজন হামলাকারীকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ক্রিস্তফ ক্লেনচার।
পোল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী ওয়ালদেমার জুরেক জানিয়েছেন, ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। বিপুলসংখ্যক মানুষকে আতঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে তিনি হামলা চালিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সন্দেহভাজন ব্যক্তির বয়স ২৫ বছরের কাছাকাছি। তিনি পোল্যান্ডের ওস্ত্রোভিয়েক শভিয়েন্তোকশিস্কি শহরের বাসিন্দা।
এদিকে, ওই শহরেই তার বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও দুজন নারী। তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাবা-মা ও বোন বলে ধারণা করছে পুলিশ। ওই তিনজনকে হত্যার ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি বলেছেন, সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি অতি ডানপন্থী মতাদর্শে আকৃষ্ট ছিলেন।
এদিকে হামলাকারীকে বাধা দিতে গিয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ইয়াকুব কুলিকের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন বিচারমন্ত্রী। তার একটি ফুসফুস কাজ করছে না। চিকিৎসার জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হচ্ছে। আহত অন্য পুলিশ কর্মকর্তার নাম আর্তুর মোরানস্কি।
প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘প্রকৃত বীর’ বলে অভিহিত করেছেন। আঞ্চলিক গভর্নর বলেছেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে আরও বেশি মানুষের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পোলিশ নাগরিক, একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং অন্য একজন নারী রয়েছেন, যার জাতীয়তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আহত ১৬ জনের সবাই রোববার জীবিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা।
হামলার ঘটনায় ব্রিটেন ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, নিহত ব্রিটিশ নাগরিকসহ অন্যদের মৃত্যুতে তার সরকার গভীরভাবে শোকাহত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও পোল্যান্ডের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।
পোল্যান্ডে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত টম রোজ বলেছেন, দেশটিতে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। হামলার পর ক্রাকোভ শহরের বিভিন্ন স্থানে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে ফুল ও মোমবাতি রেখে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মানুষ।
হামলার সময় সেখানে ছিলেন পর্যটকেরাও
ক্রাকোভের প্রধান চত্বরটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। হামলার সময় সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকেরাও ছিলেন।
ইতালিতে পড়াশোনা করা ২১ বছর বয়সী আমেরিকান শিক্ষার্থী টেলর ডর্ফমিস্টার তার এক সহপাঠীর সঙ্গে সেখানে ছিলেন। গুলির শব্দ শোনার পর তারা একটি ভবনে আশ্রয় নেন। তবে ভবনটির সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে দেখেন, সামনে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই।
এনবিসি নিউজকে ডর্ফমিস্টার বলেন, গুলির শব্দ খুব কাছ থেকে আসছিল। তখন তার মনে হয়েছিল, বেঁচে ফেরার কোনো পথ নেই।
ব্রাসেলস থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে আসা মারি-আঁজ কোলায়েরও হামলার সময় চত্বরে ছিলেন। তিনি জানান, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে একটি দোকানে আশ্রয় নেন। দোকানের মেঝেতে শুয়ে চারপাশে গুলির শব্দ শুনতে হচ্ছিল।
ব্রিটেনের বাসিন্দা নিল থ্যাক্সটন ও তার স্ত্রীও হামলা থেকে বেঁচে যান। তারা প্রথমে গুলির শব্দকে আতশবাজির শব্দ মনে করেছিলেন। পরে লোকজনকে দৌড়াতে দেখে একটি উপহারের দোকানে ঢুকে পড়েন। দোকানের কর্মীরা তাদের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং বাতি নিভিয়ে দেন।
