
র্যাঞ্চে কিশোরীদের মেরে পুঁতে রাখতেন এপস্টিন,তদন্তে নিউ মেক্সিকো জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯ ২০২৬, ১৬:৩৮ হালনাগাদ: ফেব্রুয়ারি ১৯ ২০২৬, ১৮:১৮

নিউ মেক্সিকো স্টেইটে অবস্থিত জেফ্রি এপস্টিনের র্যাঞ্চ তথা খামারের চিত্র। ছবি: রয়টার্স
- 0
জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রকাশিত নথি অনুসারে, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন তাঁর নিউ মেক্সিকোর দুর্গম র্যাঞ্চ বা খামারের বাইরে দুই বিদেশি কিশোরীর মরদেহ পুঁতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
নিউ মেক্সিকো স্টেইটের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট গত বুধবার জানিয়েছে, তারা দুই অপ্রাপ্ত কিশোরীর মরদেহ পুঁতে রাখার একটি অভিযোগ তদন্ত করছে।
জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রকাশিত নথি অনুসারে, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন তাঁর নিউ মেক্সিকোর দুর্গম র্যাঞ্চ বা খামারের বাইরে দুই বিদেশি কিশোরীর মরদেহ পুঁতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
নিউ মেক্সিকোর জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র লরেন রদ্রিগেজ বলেন, তাঁরা ২০১৯ সালের একটি ই–মেইলের কাটছাঁটহীন কপির জন্য জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টথেকে প্রকাশিত নথিতে এই অভিযোগটি ছিল।
জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ফেডারেল তদন্ত ব্যুরো-এফবিআই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে রদ্রিগেজ এক ই–মেইল বার্তায় বলেন, ‘আমরা সক্রিয়ভাবে অভিযোগটি তদন্ত করছি। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক নথিপত্র প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চালাচ্ছি।’
এর এক দিন আগে বিষয়টি নিয়ে নিউ মেক্সিকোর আইনসভা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। সান্টা ফে থেকে ৩০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত জোরো র্যাঞ্চে দুই দশকের বেশি সময় ধরে এপস্টিনের নারী ও কিশোরীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে এই তদন্ত হচ্ছে।
ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে এপস্টিনের অপরাধ উন্মোচনের এই চাপ এখন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক প্রকাশিত এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে ২০১৯ সালের সেই ই–ইমেলটি পাওয়া গেছে। এপস্টিনের মৃত্যুর কয়েক মাস পর ই–মেইলটি পাঠানো হয়েছিল নিউ মেক্সিকোর রেডিও সঞ্চালক এডি অ্যারাগনকে। তিনি তাঁর অনুষ্ঠানে ‘জোরো র্যাঞ্চ’ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
ই–মেইলের প্রেরক নিজেকে জোরো র্যাঞ্চের সাবেক কর্মচারী বলে দাবি করে কিছু ভিডিওর বিনিময়ে একটি বিটকয়েন দাবি করেছিলেন। তাঁর পাঠানো ই–মেইলে বলা হয়েছিল, ভিডিওগুলো এপস্টিনের বাড়ি থেকে নেওয়া। সেগুলোতে একজন অর্থদাতাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের সঙ্গে যৌনকাজে লিপ্ত অবস্থায় দেখা গেছে।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে এপস্টিনের অপরাধ উন্মোচনের এই চাপ এখন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় এক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক প্রকাশিত এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে ২০১৯ সালের সেই ই–ইমেলটি পাওয়া গেছে। এপস্টিনের মৃত্যুর কয়েক মাস পর ই–মেইলটি পাঠানো হয়েছিল নিউ মেক্সিকোর রেডিও সঞ্চালক এডি অ্যারাগনকে। তিনি তাঁর অনুষ্ঠানে ‘জোরো র্যাঞ্চ’ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
ই–মেইলের প্রেরক নিজেকে জোরো র্যাঞ্চের সাবেক কর্মচারী বলে দাবি করে কিছু ভিডিওর বিনিময়ে একটি বিটকয়েন দাবি করেছিলেন। তাঁর পাঠানো ই–মেইলে বলা হয়েছিল, ভিডিওগুলো এপস্টিনের বাড়ি থেকে নেওয়া। সেগুলোতে একজন অর্থদাতাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের সঙ্গে যৌনকাজে লিপ্ত অবস্থায় দেখা গেছে।
অ্যারাগন এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ই–মেইলটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তা এফবিআইয়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সঞ্চালক অ্যারাগন দাবি করেন, তিনি প্রেরককে কোনো অর্থ দেননি বা তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
অবশ্য এই রেডিও সঞ্চালক বলেন, সম্প্রতি তিনি প্রথমবারের মতো ই–মেইলটির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই ই–মেইলের ঠিকানাটি তখন আর সচল ছিল না।
অ্যারাগনের কাছে পাঠানো সেই ই–মেইলে বলা হয়েছিল, এপস্টিনের নির্দেশে দুই বিদেশি কিশোরীকে ‘জোরো র্যাঞ্চের বাইরে পাহাড়ের কোথাও’ পুঁতে রাখা হয়েছে। ই–মেইলে আরও দাবি করা হয়, ‘বেপরোয়া ও বিকৃত যৌনচারের সময় শ্বাসরোধে’ ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছিল।
এপস্টিন ফাইলের সর্বশেষ সংস্করণে থাকা এফবিআইয়ের ২০২১ সালের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যারাগন এফবিআই অফিসে গিয়ে এই ই–মেইলটির কথা জানিয়েছিলেন। ই–মেইলের প্রেরক একটি বিটকয়েনের বিনিময়ে সাতটি যৌন নির্যাতনের ভিডিও এবং জোরো র্যাঞ্চের বাইরে সমাহিত দুই বিদেশি কিশোরীর অবস্থানের তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অন্যান্য নথিপত্র খুঁজে দেখেছে, এই ই–মেইলের অভিযোগগুলো বা তদন্তকারীরা এসব দাবির কতটুকু সত্যতা খুঁজে পেয়েছেন, সে সম্পর্কে আর কোনো তথ্য নেই।
জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট গত বছর সতর্ক করেছিল, এপস্টিন তদন্তের প্রকাশিত কিছু ফাইলে ‘অসত্য ও চাঞ্চল্যকর দাবি’ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বেনামি অভিযোগ রয়েছে, যা তদন্তকারীরা প্রমাণ করতে পারেননি অথবা কিছু ক্ষেত্রে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।
গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে নিউ মেক্সিকো স্টেইট ল্যান্ড কমিশনার স্টেফানি গার্সিয়া রিচার্ড বলেন, সম্প্রতি এপস্টিন ফাইলের সর্বশেষ সংস্করণ খোঁজার সময় তাঁর অফিসের কর্মীরা এই ই–মেইলটি খুঁজে পেয়েছেন।