রোমানিয়ায় বৈধতার সুযোগ পাচ্ছেন অবৈধ অভিবাসী কর্মীরা
- 0


প্রকাশিত: মে ৭ ২০২৬, ১৩:১৫
রোমানিয়া সরকার দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত নন-ইইউ বিদেশি কর্মীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। নতুন এই নিয়মের ফলে অবৈধভাবে অবস্থানরত বহু বাংলাদেশি কর্মী তাদের অবস্থান বৈধ করার সুযোগ পাবেন। গত ২৩ এপ্রিল জারি করা জরুরি অধ্যাদেশ নম্বর–৩২ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা ২৭ এপ্রিল অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই নিয়মের ফলে অবৈধভাবে অবস্থানরত বহু বাংলাদেশি কর্মী তাদের অবস্থান বৈধ করার সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনেক কর্মী ওয়ার্ক ভিসায় রোমানিয়ায় প্রবেশ করলেও নিয়োগকর্তার কাছ থেকে কাজ না পাওয়া বা নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নতুন চাকরি খুঁজে না পাওয়ার কারণে অবৈধ হয়ে পড়েন। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা কর্মীদের বেতন থেকে কর কেটে নিলেও তা সরকারে জমা না দেওয়া বা সময়মতো টিআরসি আবেদন সম্পন্ন না করার কারণেও কর্মীরা জটিলতায় পড়েন। নতুন বিধান অনুযায়ী, ইতোমধ্যে অবৈধ হয়ে যাওয়া কর্মীদের আইন কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে রোমানিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
পাশাপাশি একটি নতুন বৈধ নিয়োগকর্তা খুঁজে নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করতে হবে এবং পরে টিআরসি কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে। তবে যেসব ব্যক্তি ইতোমধ্যে ‘রিটার্ন ডিসিশন’ পেয়েছেন অথবা অবৈধভাবে রোমানিয়ায় প্রবেশ করেছেন, তারা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। এই বিশেষ সুযোগ আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এদিকে, এ খবরে রোমানিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তারা রোমানিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা কামনা করেছেন।
বুখারেস্টভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সেন্টার ফর লিগ্যাল রিসোর্সেস-এর প্রতিনিধি জর্জিয়ানা বাদাস্কু বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তারা অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দেওয়ার জন্য রোমানিয়ান সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। অনেক অভিবাসী নিজেদের দোষে নয়, বরং নিয়োগকর্তা বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অবৈধ হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্য একটি মানবিক সমাধান প্রয়োজন ছিল।
তবে যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ জারি হয়েছে, তাদের এই সুবিধার আওতায় আনা হয়নি বলে জানান তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। যদিও এ বিষয় যোগাযোগ করা হলে দূতাবাসের কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
