ঘনিয়ে আসছে ট্রাম্পের সময়সীমার হুঁশিয়ারি, শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে অ্যামেরিকা ও ইরান

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৬ ২০২৬, ১৩:১৭
- 0
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসায়, অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত থামাতে একটি কাঠামোগত পরিকল্পনা সামনে এলেও, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আপাতত কোনো সমঝোতা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসায়, অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত থামাতে একটি কাঠামোগত পরিকল্পনা সামনে এলেও, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আপাতত কোনো সমঝোতা হয়নি।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় প্রথমে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি বিস্তৃত সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। এই উদ্যোগে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টানা যোগাযোগ রেখেছেন।
তবে ইরান জানিয়েছে, তারা কোনো চাপ বা সময়সীমার মধ্যে আলোচনায় বসতে রাজি নয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, “আল্টিমেটাম ও যুদ্ধাপরাধের হুমকির সঙ্গে আলোচনা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
তিনি আরও বলেন, ইরান তার বৈধ দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে দ্বিধা করে না এবং তা কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত নয়, বরং নিজেদের অবস্থানের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।
এদিকে অ্যাক্সিওস জানায়, সম্ভাব্য দুই ধাপের একটি চুক্তির অংশ হিসেবে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা স্থায়ী সমাধানের দিকে যেতে পারে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে সমঝোতা না হলে তেহরানের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। তিনি হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংঘাতের মধ্যেই সোমবার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইল দাবি করেছে, তারা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের গোয়েন্দা প্রধান মাজিদ খাদেমিকে হত্যা করেছে। একইসঙ্গে তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটা সেন্টারেও হামলা চালানো হয়েছে, যা দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর ক্ষতি করেছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তারা ইরানের অবকাঠামো ধ্বংস করে নেতাদের একে একে টার্গেট করবে। অন্যদিকে ট্রাম্পও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ইরান কার্যত এই জলপথ বন্ধ করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে অ্যামেরিকা ও ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে।
মানবাধিকার সংস্থার তথ্যে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে প্রায় ৩,৫৪০ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২৪৪ শিশু রয়েছে। অপরদিকে ইসরাইলে বেসামরিক নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। এছাড়া লেবাননেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নিহত হয়েছেন ১,৪৬১ জন।
