জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করছেন ৭৮ শতাংশ আমেরিকান। রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বর কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক—উভয় দলের ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নীতির কারণে পণ্য ও সেবার দাম বাড়ছে বলে মনে করেন অধিকাংশ আমেরিকান। জরিপে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের ৫৭ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের বেতন বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপ, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং অন্যান্য নীতির কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭৮ শতাংশ বলেছেন, মূল্যবৃদ্ধির জন্য হোয়াইট হাউজের অন্তত কিছু দায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান ৬৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটার ৭৬ শতাংশ রয়েছেন। গত এক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ৫৪ শতাংশ । তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকানদের হার ৪০ শতাংশ। আরও ৩০ শতাংশ বলেছেন, ব্যয় কিছুটা বেড়েছে, আর ১০ শতাংশের মতে, ব্যয়ের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৯২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ও ৬৩ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার। রিপাবলিকানদের প্রায় এক-চতুর্থাংশও এ বিষয়ে অসন্তুষ্ট। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৮ শতাংশই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপ নিয়ে সামগ্রিকভাবে অসন্তোষ জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের মধ্যে অসন্তুষ্টির হার ৪০ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর দিকে যাচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আমদানি শুল্ক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। অর্থনীতি ও যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ ট্রাম্পের জনসমর্থনেও প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউজের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি টেইলর রজার্স বলেছেন, জো বাইডেনের আমলের তীব্র মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। করছাড়ের মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং ওষুধের দাম কমানোর ফলে আমেরিকার সাধারণ মানুষ এখন এর সুফল পাচ্ছে।
এদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে বিভিন্ন খাতে খরচ কমাচ্ছেন আমেরিকানরা। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা আগের তুলনায় কম রেস্টোরান্টে খেতে যাচ্ছেন। আর ৫৬ শতাংশ বিনোদন ও অনলাইন স্ট্রিমিং সেবায় ব্যয় কমিয়েছেন। তবে সামগ্রিক ব্যয় ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ জরিপে পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার আমেরিকায় প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল ৪ দশমিক ৩৬ ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ১১ ডলার। ডিজেলের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালনে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৮ ডলারে। এ ছাড়া ৩০ বছর মেয়াদি হোম লোন সুদের হার বেড়ে প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ছয় বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
জরিপে অংশ নেওয়া ৪৫ শতাংশ আমেরিকান অবৈধ অভিবাসনকে মূল্যবৃদ্ধির একটি মূল কারণ বলে মনে করেন। ট্রাম্প প্রশাসনও দাবি করে আসছে, অবৈধ অভিবাসীদের কারণে আবাসনসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার চাহিদা বেড়েছে, যা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপটি ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে আমেরিকাজুড়ে পরিচালিত হয়। এতে ৪ হাজার ৫০৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক অ্যামেরিকান নাগরিক অংশ নেন।