ট্রাম্পের আহ্বান উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননে আবারো হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
- 0


প্রকাশিত: জুন ২ ২০২৬, ১৫:৫৯
“ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার পর লেবাননে ইযরায়েলি সামরিক অভিযান স্থগিত করা হয়েছে”- প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবি উপেক্ষা করে এর একদিন পরই দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল।
ট্রাম্পের আহ্বানকে তোয়াক্কা না করে হিজবুল্লাহবিরোধী সামরিক অভিযানের নামে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।
সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ছাড়া অ্যামেরিকার সঙ্গে বৃহত্তর কোনো শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়। ইরানের শীর্ষ আলোচক এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরাইলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ইরান শুধু আলোচনা বন্ধ করবে না, বরং সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানেও যেতে পারে।
সোমবার উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে যখন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল দাহিয়েহ এলাকায় নতুন হামলার নির্দেশ দেন। দাহিয়েহ হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে বড় ধরনের অভিযান স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেন। পরে লেবানন সরকার জানায়, ইসরাইল আপাতত বৈরুতে পরিকল্পিত হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং হিজবুল্লাহও ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন আক্রমণ বন্ধ রাখবে।
তবে এই ঘোষণায় সাধারণ লেবানিজদের উদ্বেগ কমেনি। বৈরুতের আকাশে ইসরাইলি ড্রোনের টহল অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে নাবাতিয়েহসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশও দিয়েছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে দুটি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে। যদিও সীমান্ত পেরিয়ে বড় ধরনের রকেট হামলার খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইল জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া দুটি প্রজেক্টাইল তারা ভূপাতিত করেছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইযরাইল কাটজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, উত্তর ইসরাইলের বসতিগুলোতে হামলা চলতে থাকলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও ব্যাপক আক্রমণ চালানো হবে। তার ভাষায়, “হামলা বন্ধ হবে, অথবা দাহিয়েহতে আবার আঘাত হানা হবে।”
সংঘাত নিরসনে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধবিরতিকে কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী করা। এ জন্য ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট অঞ্চলকে ‘পাইলট জোন’ হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে যুদ্ধ বন্ধ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননের সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরাইলের অন্যতম প্রধান দাবি হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের প্রশাসনও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সেই লক্ষ্য অর্জনের পক্ষে। তবে হিজবুল্লাহ এখনো আংশিক যুদ্ধবিরতির পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেয়নি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো লেবাননে শত্রুতা বন্ধের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেবে না।
গত ২ মার্চ শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত লেবাননে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে ইসরাইলের ২৬ সেনা ও ৪ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে তেল আভিভ। যুদ্ধের কারণে ১২ লাখের বেশি লেবাননি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় বৈরুতে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কমলেও দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিরতি এখনো অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। আর ইরানের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
