জুলাই সনদে সই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের

ইউএনবি

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭ ২০২৫, ১৭:৫৩ হালনাগাদ: মার্চ ৪ ২০২৬, ১৬:১০

সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করা হয়। ছবি: মোহাম্মদ হাসান মারুফ

সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করা হয়। ছবি: মোহাম্মদ হাসান মারুফ

  • 0

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং সিপিবি-বাসদসহ চারটি বামপন্থি দল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি।

ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

এতে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো সাত দফা অঙ্গীকার করেছেন।

সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করা হয়।

অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়, ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ অঙ্গীকার ও ঘোষণা করছি যে:

১. জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

২. রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের সম্মিলিতভাবে জনগণের অভিপ্রায়ের প্রতিফলন হিসেবে সনদকে সংবিধানে সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করা।

৩. সনদের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করব না, উপরন্তু উক্ত সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

৪. গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ১৬ বছরের সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তাৎপর্যকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবে।

৫. গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারগুলোকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।

৬. সংবিধান, নির্বাচন, বিচার, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় সংস্কারের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন বা সংশোধন করা হবে।

৭. সনদে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব‍্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং সিপিবি-বাসদসহ চারটি বামপন্থি দল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি।

এর আগে বিকেলে জাতীয় সংগীতে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু হয়।