ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।
অ্যামেরিকান গোয়েন্দা সূত্রে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল গোপনে ইরানের কিছু পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই খবরে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।
ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বুধবার সকালে ব্যারেল প্রতি ৯৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ দশমিক ৩৫ ডলারে।
অন্যদিকে অ্যামেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে তেলের দাম ৯৬ সেন্ট বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৮২ দশমিক ৯৯ ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা মারাত্মক আকার নিতে পারে। বিশেষ করে, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
তবে এখনো ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হামলার ঘোষণা দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এখনো মিশ্র, যদিও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে—তারা কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারে এ ধরনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজার ও অন্যান্য পণ্যের দামেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরবর্তী কিছুদিন এই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির গতিপথই নির্ধারণ করবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্যের ভবিষ্যৎ।