ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ইউরোপীয় কূটনীতিক, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক ও এক আমেরিকান আলোকচিত্রী আহত হওয়ার ঘটনার পর রোববার (১৮ অক্টোবর) ফিলিস্তিনের খ্রিষ্টান অধ্যুষিত তায়বেহ গ্রাম পরিদর্শন করেছেন আমেরিকার কর্মকর্তারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিনিধিদলে ছিলেন আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রমবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রাইলি বার্নস এবং হলি সি-তে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ব্রায়ান বার্চ। তাঁরা স্থানীয় একটি ল্যাটিন কনভেন্ট চার্চ পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করেন।
এর এক দিন আগে, শনিবার, তায়বেহের কাছে মুখোশধারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হন বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিকেরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ফ্রান্সের একজন মেয়র ও ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকেরা। এ ঘটনায় বেলজিয়ামের একটি কূটনৈতিক গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর আগে শুক্রবার, ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলার শিকার হন দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শনিবারের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং ওয়েস্ট ব্যাংকে সহিংসতা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়নি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার এবং দেশটির সামরিক বাহিনী কূটনীতিকদের ওপর হামলার জন্য ইসরায়েলি দাঙ্গাকারীদের দায়ী করেছে। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, কূটনীতিকরা সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে এমন একটি সংবেদনশীল এলাকায় যাওয়ার আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেননি। হেইডি লেভিনের ওপর হামলার ঘটনার বিবরণও পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে, রোববার ওয়েস্ট ব্যাংকে বসতি স্থাপনকারীদের একটি সম্মেলনে যোগ দেন ইসরায়েলে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। এর আগে তিনি আমেরিকার নাগরিক লেভিনের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানোর আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বিশেষ করে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে এসব ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ইয়েশ দিন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ওয়েস্ট ব্যাংকে বসতি স্থাপনকারীদের অন্তত ১৭০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন সাংবাদিক, অধিকারকর্মী ও বিদেশি পর্যবেক্ষকেরাও।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এসব হামলা নেতানিয়াহু সরকারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওয়েস্ট ব্যাংকে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছেন। তবে বসতি সম্প্রসারণের নীতি পরিবর্তনে নেতানিয়াহু সরকারের ওপর তাঁর প্রশাসন যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করেনি বলে সমালোচনা রয়েছে।