জুনে অ্যামেরিকার কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি মন্থর, যুক্ত হয়েছে মাত্র ৫৭ হাজার কর্মসংস্থান

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২ ২০২৬, ১৪:৪৩
- 0
অ্যামেরিকার লেইবার ডিপার্টমেন্ট বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মে মাসে চাকরি বৃদ্ধির সংখ্যা আগের ১৭২ হাজার থেকে কমিয়ে ১২৯ হাজার করা হয়েছে। এপ্রিলের সংখ্যাও ৩১ হাজার কমিয়ে ১৪৮ হাজারে নামানো হয়েছে। দুই মাস মিলিয়ে পূর্বের হিসাবের তুলনায় ৭৪ হাজার কম চাকরি যুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের জুনে অ্যামেরিকার শ্রমবাজারে চাকরি বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কমেছে। গত মাসে নন-ফার্ম পে-রোলে মাত্র ৫৭ হাজার নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের ১১০ হাজার চাকরি বৃদ্ধির পূর্বাভাসের প্রায় অর্ধেক। এপ্রিল ও মে মাসের কর্মসংস্থান তথ্যও নিম্নমুখী সংশোধন করা হয়েছে। এতে অ্যামেরিকার শ্রমবাজার শীতল হওয়ার ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট হয়েছে এবং ফেডারেল রিজার্ভের নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আর্থিক বাজারে নতুন হিসাব শুরু হয়েছে।
লেইবার ডিপার্টমেন্ট বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মে মাসে চাকরি বৃদ্ধির সংখ্যা আগের ১৭২ হাজার থেকে কমিয়ে ১২৯ হাজার করা হয়েছে। এপ্রিলের সংখ্যাও ৩১ হাজার কমিয়ে ১৪৮ হাজারে নামানো হয়েছে। দুই মাস মিলিয়ে পূর্বের হিসাবের তুলনায় ৭৪ হাজার কম চাকরি যুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে বেকারত্বের হার মে মাসের ৪ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। তবে এই হার কমার পেছনে শ্রমবাজারের শক্তিশালী হওয়ার চিত্র নয়, বরং বিপুলসংখ্যক মানুষের শ্রমশক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় ভূমিকা রেখেছে। গত মাসে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার মানুষ কর্মসংস্থান খোঁজা বা কাজের বাজার থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
ফলে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার কমে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে, যা মার্চ ২০২১-এর পর সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ চাকরি খোঁজা বন্ধ করলে তারা বেকারত্বের সরকারি হিসাবে আর অন্তর্ভুক্ত থাকেন না। তাই বেকারত্বের হার কমলেও শ্রমবাজারের প্রকৃত শক্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়োগের গতি কমার পেছনে বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে। ব্যবসায়ীরা সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন নিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তবে এখনও বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই দেখা যাচ্ছে না। কোভিড-পরবর্তী সময়ে দক্ষ কর্মী পেতে দীর্ঘ সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ধরে রাখতে আগ্রহী।
জুনে সবচেয়ে বেশি চাকরি বেড়েছে পেশাগত ও ব্যবসাসেবা খাতে। এই খাতে যুক্ত হয়েছে ৩৬ হাজার কর্মসংস্থান। সামাজিক সহায়তা খাতে ২৫ হাজার এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২২ হাজার চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যসেবা খাতে গত এক বছরের গড় মাসিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তুলনায় জুনের সংখ্যা কম।
অন্যদিকে অবসর, বিনোদন ও আতিথেয়তা খাতে ৬১ হাজার চাকরি কমেছে। ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে এ খাতে নিয়োগ বাড়বে বলে প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। নির্মাণ, উৎপাদন, খুচরা বিক্রয়, পরিবহন, গুদাম ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক কার্যক্রম এবং সরকারি চাকরিতে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
শ্রমবাজারের এই ধীরগতি ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। গত মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখে। তবে চলতি বছর ঋণের খরচ আরও বাড়তে পারে—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিল নীতিনির্ধারকেরা।
সর্বশেষ কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর জুলাইয়ে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ২০ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। সেপ্টেম্বরে সুদ বাড়ার সম্ভাবনা এখনও তুলনামূলক বেশি হলেও তা আগের প্রায় ৭৫ শতাংশ থেকে কমে ৬০ শতাংশে নেমেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কর্মক্ষম জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে বর্তমানে অ্যামেরিকার অর্থনীতিতে মাসে শূন্য থেকে ৫০ হাজার চাকরি তৈরি হলেই যথেষ্ট হতে পারে। অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির কারণে শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় এই ‘ব্রেক-ইভেন’ হারও নেমে গেছে।
তবে চাকরি বৃদ্ধির গতি, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ এবং খাতভিত্তিক নিয়োগের তথ্য মিলিয়ে জুনের প্রতিবেদন বলছে, অ্যামেরিকার শ্রমবাজার এখন ‘কম নিয়োগ, কম ছাঁটাই’-এর এক অনিশ্চিত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মাসগুলোর তথ্যই নির্ধারণ করবে এই ধীরগতি সাময়িক, নাকি বৃহত্তর অর্থনৈতিক শীতলতার শুরু।

