কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ওপর শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অ্যামেরিকা।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানো লাতিন অ্যামেরিকার ওই নেতার ওপর ওয়াশিংটনের চাপ বৃদ্ধির মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, অ্যামেরিকায় কোকেনের পাচার বন্ধে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পেত্রো।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, গুস্তাভো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কলম্বিয়ায় কোকেন উৎপাদন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এ মাদকদ্রব্যটি দিয়ে সয়লাব হয়ে গেছে অ্যামেরিকা। এটি অ্যামেরিকানদের বিষাক্রান্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট পেত্রো অবৈধ মাদক কারবারে যুক্ত গোষ্ঠীগুলোর বিকাশে বাধা না দেওয়ার পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশকে রক্ষায় কঠিন ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, অ্যামেরিকায় মাদক পাচার বরদাশত করা হবে না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে পেত্রো বলেন, তিনি কয়েক দশক ধরে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছেন।
রয়টার্স জানায়, অ্যামেরিকার এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কয়েকটি দেশের নেতার সঙ্গে যুক্ত হলেন পেত্রো।
ইতোপূর্বে অ্যামেরিকার নিষেধাজ্ঞায় পড়া নেতাদের মধ্যে আছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
গত মাসের শেষের দিকে নিউ ইয়র্কের সড়কে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে যোগ দিয়ে সেনাদের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আদেশ অমান্য করার তাগিদ দেওয়ায় পেত্রোর ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় অ্যামেরিকা।
স্টেইট ডিপার্টমেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলে, ‘বেপরোয়া ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা পেত্রোর ভিসা বাতিল করব।’
ম্যানহাটনে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের বাইরে এক বিক্ষোভে ফিলিস্তিনিদের মুক্ত করার অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে বৈশ্বিক সশস্ত্র বাহিনী গঠনের আহ্বান জানান পেত্রো।
তিনি স্প্যানিশে বলেন, ‘এ বাহিনীকে অ্যামেরিকার বাহিনীর চেয়ে বড় হতে হবে।
‘এ কারণে এখান থেকে, নিউ ইয়র্ক থেকে আমি অ্যামেরিকার সেনাবাহিনীর সব সেনাদের বলব, জনগণের দিকে তাদের বন্দুক তাক না করতে। ট্রাম্পের আদেশগুলো অমান্য করুন। মানবতার আদেশ মানুন।’