চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ইরানের মজুদকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তর ও সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গত ২০ মে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলাকালে এ প্রস্তাব রাখেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলন চলাকালে এ কথা নিশ্চিত করেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তবে আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অসম্মতি জানান তিনি।
পেসকভ আরও জানান, ইতোমধ্যে রাশিয়ায় ইউরেনিয়াম সংরক্ষণের প্রস্তাবটি অ্যামেরিকায় পাঠানো হয়েছে, তবে ওয়াশিংটন এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
একইদিনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণে প্রায় উপযোগী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের বাইরে স্থানান্তর না করতে নিষেধাজ্ঞা নির্দেশনা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ইরানি কর্মকর্তারা মনে করেন, তাদের দেশ থেকে ইউরেনিয়াম অপসারণ করা হলে, ইরান আরও বেশি অ্যামেরিকা ও ইসরায়েলের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে আলোচনার আগে ইসরায়েল ও অ্যামেরিকাকে পুরোপুরিভাবে হামলা বন্ধের নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান শর্ত হলো, ইরানের সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা ও মজুদকৃত ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম অ্যামেরিকার কাছে হস্তান্তর করা।
সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার অনুমতি দিলেও ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে- এ বিষয়ে অনড় ট্রাম্প।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো চুক্তির আগে দেশটিকেও ইরানের ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ইরানে মজুদকৃত ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা ৬০ শতাংশ। এটি ৯০ শতাংশে পরিণত হলেই শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব।