আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের কঠোর নীতি, ‘গোল্ডেন টিকেট’ এখন অতীত

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৬ ২০২৫, ৮:২৬

মাহমুদ সোমবার ব্রিটেনের সংসদে এই নীতি বিস্তারিত উপস্থাপন করবেন। ছবি: ডিডব্লিউ

মাহমুদ সোমবার ব্রিটেনের সংসদে এই নীতি বিস্তারিত উপস্থাপন করবেন। ছবি: ডিডব্লিউ

  • 0

আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় এবং সাপ্তাহিক আর্থিক ভাতা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হবে।

আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের জন্য সুরক্ষা ও সুবিধাগুলো কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

এই নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করা এবং দেশটির রাইট উইং পার্টির চাপ মোকাবিলা করা মোকাবিলা করা।

পরিকল্পনাটি ডেনমার্কের কঠোর আশ্রয় নীতির মডেলে করা হয়েছে। শনিবার রাতে এই ঘোষণা আসে, যখন প্রধানমন্ত্রী কির স্টারমার বিরোধী রিফর্ম ইউকে পার্টির বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তার কারণে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের ইন্টেরিয়র মিনিস্টার শাবানা মাহমুদ বলেন, ‘আমি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের ‘গোল্ডেন টিকেট’ বন্ধ করতে যাচ্ছি।’ তিনি জানান, হোম অফিসের নতুন প্রস্তাবগুলো আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বড় আশ্রয়নীতি সংস্কার।

মাহমুদ সোমবার ব্রিটেনের সংসদে এই নীতি বিস্তারিত উপস্থাপন করবেন।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান এন্ডভার সোলোমন বলেছেন, নতুন পদক্ষেপগুলো মানুষকে ব্রিটেনে আসা থেকে আটকাতে পারবে না। তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, নীতি পুনর্বিবেচনা করতে।

তিনি বলেন, ‘যারা কঠোর পরিশ্রম করে এবং ব্রিটেনে অবদান রাখে, তাদের নিরাপদ ও স্থিতিশীল জীবন গড়ার সুযোগ থাকা উচিত।’

বর্তমানে, যারা ব্রিটেনে আশ্রয় পায়, তারা ৫ বছরের জন্য শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পান। এর পরে তারা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি এওং পরে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।

শাবানা মাহমুদ-এর কার্যালয় বলেছে, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতির সময় ৩০ মাসে সীমিত করা হবে। এই সুরক্ষা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং যারা নিরাপদ বিবেচিত হবেন, তাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

কার্যালয় আরও জানিয়েছে, যারা আশ্রয় পেয়েছেন, তাদের ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের অনুমতি পেতে।

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জরিপের ফল বলছে, ভোটারদের জন্য অভিবাসন এখন অর্থনীতির চেয়েও বেশি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যে ১,০৯,৩৪৩ জন আশ্রয়প্রার্থী আবেদন করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। ২০০২ সালের রেকর্ড (১০৩,০৮১) থেকে ৬ শতাংশ বেশি।

হোম অফিস বলেছে, নতুন নীতির কারণে অনিয়মিত অভিবাসী ও শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার আগ্রহ কমবে এবং যারা ইতিমধ্যেই দেশটিতে অবস্থান করছে তাদের দেশে ফিরে যেতে বলা সহজ হবে।

এর পাশাপাশি, ২০০৫ সালের একটি আইন অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয় এবং সাপ্তাহিক আর্থিক ভাতা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হবে। এর ফলে, এই সুবিধাগুলো আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে থাকছে না।