ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে সামরিক সহায়তা বাড়াচ্ছে ব্রিটেন। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রতিরক্ষামূলক টহল দেবে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান। তবে এসব যুদ্ধবিমান হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায় যুক্তরাজ্যের ডিফেন্স সেক্রেটারি ওয়েস স্ট্রিটিং মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের শহর, বেসামরিক জনগোষ্ঠী ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে প্রতিরক্ষামূলক বিমান অভিযান পরিচালনা করবে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান।
ব্রিটেন সৌদি আরবে একটি সামরিক পরিবহন বিমান এবং অজ্ঞাতসংখ্যক সামরিক উপদেষ্টাও পাঠাবে। ওয়েস স্ট্রিটিং জানান, এর আগে সৌদি আরবের বিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের যে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ানো হচ্ছে।
হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে স্ট্রিটিং বলেন, সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার ক্ষেত্রে হুথিদের তৎপরতা স্পষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। চলতি মাসের শুরুর দিকে রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও একাধিকবার হামলা হয়। এসব হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
এর আগে সৌদি আরব হুথি ও অন্যান্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় মিত্র দেশগুলোর কাছে আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা চেয়েছিল। এ তালিকায় ব্রিটেন, ফ্রান্স, পাকিস্তান ও মিসর রয়েছে বলে জানিয়েছিল এপি।
এদিকে, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানো হলেও এবারের উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি ওয়াশিংটন।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইয়েমেন সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভব নয়। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে জাতিসংঘের নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।